বিদ্যুত্ উত্পাদন ও যোগাযোগ উন্নয়নে যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে ঐকমত্য
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৭
পানি ব্যবস্থাপনা, জলবিদ্যুত্ উত্পাদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটান যৌথ সহযোগিতামূলক বৃহত্তর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে ঐকমত্য হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের মধ্যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে যৌথ কর্মপরিষদের প্রথম এই বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে দেশসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে যে সর্বোচ্চ সমঝোতা রয়েছে তা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।
গতকাল শেষ হওয়া দুদিনের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রস্তাবিত যৌথ জলবিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র স্থাপন, পানি ব্যবস্থাপনা, কার্যপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি সড়ক, রেলপথ এবং জলপথের উন্নয়ন যোগাযোগ বৃদ্ধিতে প্রতিটি দেশের লাভজনক অবস্থান থেকে বিবেচনা করা হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়।
গতকাল শুক্রবার সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত দুদিনের বৈঠকের শেষ দিনে সরাসরি সড়ক পথে বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে ভুটান যাওয়ার ট্রানজিট নিয়েও আলোচনা হয়। সেইসঙ্গে রেলপথ, সড়কপথের উন্নয়ন এবং নৌপথে যোগাযোগের সম্ভাবনা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিন দেশের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। গতকাল বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক দপ্তরের মহাপরিচালক মাশরাফি বিনতে শামস। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রেল মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বিরেন্দ্র কুমার এবং ভুটান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত ডাসো বাপ কেসাং।
এর আগেরদিন বৃহস্পতিবার এ বৈঠকে আলোচনা করা হয় জলবিদ্যুত্ উত্পাদন ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এদিন বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পরিমল চন্দ্র সাহা, ভারতের পক্ষে এক্সটার্নাল এফেয়ার্স মিনিস্ট্রির যুগ্ম-সচিব অখিলেশ মিশ্র এবং ভুটানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ডিপার্টমেন্ট অব হাইড্রো পাওয়ার অ্যান্ড পাওয়ার সিস্টেমের মহাপরিচালক ডাসো ইয়েসি ওয়াংরি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফরকালে এই বৈঠকের বিষয়ে কাঠামোগত একটি চুক্তি (ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট) হয়। এই চুক্তির পর পানি ও বিদ্যুত্ বিষয়ক বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের এটি প্রথম বৈঠক।