বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তির বিরোধিতা করবে বিজেপি

প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়ে পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে বিরোধিতা করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতের বিরোধীদল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সংসদীয় দলের চেয়ারম্যান এল কে আদভানির বাসভবনে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে এল কে আদভানি, রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি এবং মুরালি মনোহর যোশির মতো কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে এক্সপ্রেস নিউজ সার্ভিস ও টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিজেপির এ সিদ্ধান্তের কারণে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আবার অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠকে বিজেপি নেতারা জানান, ইউপিএ জোট সরকারের করা এই চুক্তির বিরোধিতা করা হবে। কারণ, তারা মনে করেন এ চুক্তির কারণে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশই বেশি লাভবান হবে। বিজেপির ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট বিজয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘ভারত পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১০ হাজার একর এবং আসাম থেকে ৫০০ একর ভূমি বাংলাদেশকে দেবে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ভারত এর চেয়ে অনেক কম পাবে। তাই পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে—সবখানেই এ চুক্তির বিরোধিতা করবে বিজেপি।’ এর আগে গত ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিজেপি সরকারের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল বলে জানানো হয়। বাজেট অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করার কথা রয়েছে। এ বিল পাসের জন্য পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ার জন্য শুধু বিজেপি নয়, দেশটির বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্য ও পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের প্রায় চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমানা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরকালে প্রস্তাবিত স্থলসীমান্ত প্রটোকল এবং ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সীমান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি ঘটলে বাংলাদেশে ভারতের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দারা উপকৃত হবেন।