বিচার বহির্ভূত গুম হত্যা দুর্নীতি প্রধান মানবাধিকার সমস্যা
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৯
গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও দুর্নীতি বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা। এছাড়া মানবাধি-কার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা, দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের দায় মুক্তি, বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সরকারের বাধাও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০১২ সালের মানবাধিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ সময় গণতন্ত্র মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী উজরা জেয়া উপস্থিত ছিলেন। এ বছর ১৯৯টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশ। ২০০৮ সালে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে বলে দেশীয় ও বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বিশ্বাস করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার সমস্যা হলো জোরপূর্বক গুমের ঘটনা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য, কাজের ক্ষেত্রে পরিবেশের ও শ্রমিক অধিকারের দুর্বল অবস্থা। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, অপহরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এক্ষেত্রে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বিভিন্ন সময় মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং নারীরা অসম আচরণ ও সহিংসতার শিকার। ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। গত ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ায় গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের কথা প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া স্বেচ্ছাচারীভাবে গ্রেফতার, আটকে রাখা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুও দেশটির মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বড়া সমস্যা। দুর্বল বিচারিক ক্ষমতা এবং বিচারের পূর্বে দীর্ঘদিন আটক রাখার ঘটনা ঘটে চলেছে। নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে। সভা-সমাবেশ ও বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সরকার বাধা সৃষ্টি করছে, সরকারের হয়রানির ভয়ে কিছু কিছু সাংবাদিক সমালোচনা করা থেকে ‘আত্ম-নিষেধাজ্ঞার’ পথ বেছে নিয়েছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা ও সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার এখনো সমস্যা হয়ে রয়েছে। কিছু এনজিও তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি ও অনানুষ্ঠানিক বাধার মুখোমুখি হচ্ছে। ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। যদিও সরকার ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা বলছেন, এর পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সরকারি কর্তা ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দায়মুক্তি এখনো বড় সমস্যা। এছাড়া গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে খুনের ঘটনায় সরকার তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাচারী ও বেআইনি বঞ্চনা:প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধানে ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষিত হলেও সরকার অথবা এর এজেন্টরা বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, এমনকি এসব কেস তদন্তে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যদিও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে এবং বিচারবহির্ভূত সকল হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ তদন্ত করা হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অল্প কিছু ঘটনায় সরকার অভিযোগ এনেছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তারা প্রশাসনিক শাস্তি পেয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য দায়মুক্তি পেয়েছে। ২০১১ সালে সরকার র্যাবে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেল গঠন করে। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো র্যাব কর্মকর্তার বিচার হয়েছে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা, সরকারের তথ্য অনুযায়ী গত বছর ৭০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪০টি হত্যাকাণ্ডের জন্য র্যাব দায়ী বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতার অভিযান, আটক ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সরকার প্রায় সময় এসব হত্যাকাণ্ডকে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ অথবা এনকাউন্টারে হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছে। র্যাব বা পুলিশের সঙ্গে অপরাধী চক্রের সদস্যদের সাথে গুলি বিনিময়কালে এসব ঘটনা ঘটে। র্যাবের বাইরে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ২৪টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ২০১১ সালে এ সংখা ছিলো ৩৩। প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্য প্রস্তুতকারী ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) ষড়যন্ত্র তার হত্যাকাণ্ডের কয়েকটি কারণের মধ্যে একটি।
প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে ১৬৯ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া ১৭ হাজার ১৬১ জন আহত হন। এই মেয়াদে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনা ঘটেছে ৩৮২টি। এ সময়ে বিরোধীদল বিএনপি’র মধ্যে ঘটেছে ১৪৬টি। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দলে ৩৭ জন নিহত ও ৪ হাজার ৪৩৩ জন আহত এবং বিএনপির মধ্যে কোন্দলে ৬ জন নিহত ও ১৬১৯ জন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, গত ৯ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের হামলায় ২৪ বছর বয়সী পথচারী বিশ্বজিত্ দাস নৃশংসভাবে খুন হয়। গণমাধ্যমে এ ঘটনা ফলাও করে প্রচার করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছে।
গুম::প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী যেমন র্যাব ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের মাধ্যমে গুম ও অপহরণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। অধিকারের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালে ২৪টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। ২০১১ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৩০। দশটি গুমের ঘটনায় র্যাব জড়িত বলে অধিকার দাবি করেছে। তবে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে ৫৬টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে সিরাজগঞ্জের নজরুল ইসলামের ঘটনা গুম হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণ:সংবিধানে নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণ নিষিদ্ধ হলেও আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের সময় র্যাব ও পুলিশ সদস্যের প্রহার ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। আইন- শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা হুমকি, ভীতি, মারধর ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে থাকে। অধিকারের তথ্য অনুযায়ী ৭২ জনকে নির্যাতন করা হয়েছে যাতে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় দায়ীদের সরকার খুব কমই অভিযুক্ত করেছে, বিচার করে শাস্তি দিয়েছে। এতে বলা হয়, গত বছরের ২২ এপ্রিল খুলনায় থানার মধ্যে ছাত্রদলের এক নেতাকে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা এস এম কামারুজ্জামানকে বদলি করা হয় কিন্তু আদালতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
এ সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ১৩টি ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের শিকার ৫ জনেরই বয়স ১৭ বছরের নিচে।
কারাগার ও বন্দিশালার অবস্থা :কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা অতিরিক্ত, স্যানিটেশন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। এসব কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ৩৩ হাজার ৫৭০ জনের হলেও রাখা হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০০ জনকে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের সাজা হয়েছে বাকিরা কেউ কেউ বিচারের অপেক্ষায় আবার কারো বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
জোরপূর্বক গ্রেফতার ও বন্দি :জোরপূর্বক গ্রেফতার ও বন্দি করা সংবিধানে নিষিদ্ধ থাকলেও এক্ষেত্রে আইনবলে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহভাজন অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সমাবেশ থেকে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সঙ্গে শ্রমিক, রিকশাওয়ালা, হকার, পথচারীদের পুলিশ বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করছে।
প্রকাশ্যে সুষ্ঠু বিচার অনুপস্থিত
আইনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও সংবিধানের একটি দীর্ঘ অস্থায়ী ধারা বিচারিক স্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্রকে দুর্বল করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারাধীন জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনজীবীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের কর্মকর্তারা ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। দুর্নীতি, মামলার জটের কারণে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ অনেক সময় ম্যাজিস্ট্রেট, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং আদালতের কর্মচারীরা আসামির কাছে ঘুষ দাবি করে। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় গণবিচার হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ বিচার বন্ধ করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অপরাধে বিচারের আহবান জানিয়েছে। দেশটিতে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা গ্রেফতার ও বিচারের অন্যতম একটি কারণ। তবে রাজনৈতিক কারণে কোনো ব্যক্তির পৃথকভাবে বিচার হয়নি।
বিচারবিহীন আটক :ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর প্রিজন স্টাডিজের তথ্য মতে, ২০০৮ সালের হিসাবে দেখা যায়, ২০ লাখ ফৌজদারি অপরাধের মামলা ঝুলে আছে। বিচার ছাড়াই ৭০ শতাংশ বা ৫৬ হাজার বন্দি আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্বল বিচার বিভাগের কারণে বিচারের আগেই লোকজনকে দীর্ঘ সময় আটক রাখা হয়। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে। সরকারবিরোধী রাজনীতিকদের কার্যকলাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যম :সরকার বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতাকে সীমিত করেছে। সরকারের হয়রানির ভয়ে কিছু কিছু সাংবাদিক সমালোচনা করা থেকে আত্ম-নিষেধাজ্ঞার পথ বেছে নিয়েছে। সাংবাদিকরা সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গত বছর চারজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। ১১৮ জন আহত, ৫০ জনকে হুমকি দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি নিজ বাড়িতে খুন হন। এক বছর পার হলেও তাদের খুনিদের আটক করা সম্ভব হয়নি। বেসরকারি একুশে টেলিভিশনের মালিক ও কর্তৃপক্ষকে হয়রানি করা হয়েছে। কোনো কোনো টিভি চ্যানেলের সরকারের পরামর্শ না শোনায় গোয়েন্দা সংস্থার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা :সংবিধানে সভা সমাবেশের অনুমতি দেয়া হলেও সরকার অনেক সময় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সহিংসতার আশঙ্কার কথা বলে সরকার অনেক সময় রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়নি। অধিকারের তথ্য অনুযায়ী সরকার গত বছর ১০৫ বার ১৪৪ ধারা জারি করেছে। গত বছরের ১২ মার্চ বিএনপি’র ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দিতে অনেক নেতাকর্মীকে বাধা দেয়া হয়। কর্মসূচির আগে পুলিশ ৪০০ নেতাকর্মীকে আটক করে। জামায়াতে ইসলামীকে সভা সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। এমনকি দলটির প্রধান কার্যালয়ে বৈঠক নিষিদ্ধ করে পুলিশ।
প্রতিবেদনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে বলা হয়, প্রধান বিরোধীদল জাতীয় সংসদ বয়কট করে চলেছে। কিন্তু সদস্যপদ রক্ষার প্রয়োজনে তারা ফিরে আসে। স্পিকার ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের নিরপেক্ষ আচরণের অভাবে তারা আবার বয়কট করে চলেছে।
দুর্নীতির বিষয়ে বলা হয়, আইন অনুযায়ী সরকারি কর্তাব্যক্তিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিলো মন্ত্রী ও এমপিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা করা হয়নি। পদ্মা সেতু প্রকল্পে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদক ব্যর্থ হয়েছে। রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের ঘুষ কেলেঙ্কারীর কোনো সুরাহা হয়নি। রিপোর্টে দুদককে দন্তহীন বাঘ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। পুলিশের দুর্নীতির হিসাব বা মূল্যায়নে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বিচারবিভাগ সরকারের রাজনৈতিক চাপে চলছে। বিরোধীদলের মামলাগুলোর নিয়মিত নিষ্পত্তি হয় না। আপিল বিভাগ বিরোধীদলের অনেক নেতার জামিন বাতিল করেছে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নতুন করে আশ্রয় না দেয়ার সমালোচনা করা হয়। এছাড়া কক্সবাজারের রামুতে গত বছর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়।