আমি হতাশ, ভয়ে বিনিয়োগকারীরা চলে যাচ্ছে :- জাপানী রাষ্ট্রদূত
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৯
জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাফোশিমা বাংলাদেশের বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার অভাবে ভয়ে জাপানী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী চলে যাচ্ছে। স্থিতিশীলতার স্বার্থে সকল দল ও পক্ষ একত্রে বসে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা দূর করা উচিত।
জাপানী রাষ্ট্রদূত শিরো সাফোশিমা গতকাল ার পর
শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে এ হতাশার কথা ব্যক্ত করেন। গণমাধ্যমে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিক্যাব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডিক্যাব সভাপতি ইমরান আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
জাপানী রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি হতাশ। কিন্তু আশাহত নই। কারণ বাংলাদেশের মানুষ অতীতে অনেক সংকটকাল পার করেছে। ইতিমধ্যে সনি, ক্যানন, রিকো, মিত্সুবিসির মতো বড় বড় জাপানী কোম্পানির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে এসে আতংকিত হয়ে ফিরে গেছে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থান করে। চট্টগ্রামে হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরিত হলে তারা দ্রুত দেশে চলে যায়। এছাড়া জাপানের সিনেটর, ওডিএ কমিটিসহ একাধিক প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের কর্মসূচি মার্চ মাসে বাতিল করা হয়।
দেড় বছর আগে বাংলাদেশে আসা জাপানী রাষ্ট্রদূত শিরো সাফোশিমা বলেন, তখন ভেবেছিলাম জাপানী কোম্পানিগুলো এদেশে আরো বেশি বিনিয়োগ করবে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণ করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই উত্সাহ যে হারিয়ে গেছে, এটা আজ স্পষ্ট। জাপান বাংলাদেশের একক বৃহত্ দাতাদেশ। বর্তমান পরিস্থিতি যে দেশটির আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করছে, সেটা খুবই উদ্বেগজনক। সহিংসতা নিরাপরাধ মানুষের জীবনহানি করছে, সম্পত্তি ধ্বংস করছে। প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে হরতাল হতে পারে। কিন্তু তা সহিংসতা বা বিদ্বেষ ছাড়া শান্তিপূর্ণ হতে হবে।
শিরো সাফোশিমা বলেন, এ অবস্থায় এদেশে যে পরস্পরবিরোধী মত ও অবস্থান রয়েছে তা সব দল ও পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সেতুবন্ধন রচনা করতে পারে। তাই সবাইকে একত্রে বসতে হবে।
বাংলাদেশের ‘ভাল বন্ধু’ হিসাবে আমরা এখানে এমন কোন পরিস্থিতি দেখতে চাই না, যেখানে সহিংসতাই কেবল প্রাধান্যই পাবে এবং সব উন্নয়ন সম্ভাবনা আর অগ্রগতিকে গ্রাস করে ফেলবে।
তিনি এক পর্যায়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এদেশের মানুষ অনেক সংকট কাটিয়ে উঠেছে। যুদ্ধ করে দেশটির জন্য স্বাধীনতা এনেছে। তাহলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা বিরোধ কেন মেটাতে পারবে না? কেবল বিদেশি কূটনীতিক নয়, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। ফিরে যাওয়া জাপানী বিনিয়োগকারীরা আতংকিত হয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তারা আবার ফিরে আসবে না। তিনি আরো বলেন, জাপানী কোম্পানিগুলো এই অঞ্চলে তাদের ব্যবসা স্থানান্তর করতে চায়। শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভারত, কম্বোডিয়ায় তারা আসছে। আমি বলেছি, বাংলাদেশেও তারা আসুক। হোন্ডা কোম্পানি ইতিমধ্যে বাংলাদেশে অফিস স্থাপন করেছে। এখানে দুই চাকার বাহন সংযোজন করবে। ভবিষ্যতে চার চাকার গাড়িও তৈরি হবে। কিন্তু সেজন্য একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক পরিবেশ দরকার। তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংক না থাকায় জাপান পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করছে না। কিন্তু মেট্রোরেল, বিদ্যুত্ খাতে বড় ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।