উইকিলিকসের তথ্য

১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে ভারতের হস্তক্ষেপের আশংকা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে ভারতের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ভারতে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি সাক্সবিকে ভারতের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই অভ্যুত্থানে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। হেনরি কিসিঞ্জার ২৭ নভেম্বর উইলিয়াম সাক্সবিকে লেখা এক চিঠিতে দ্রুত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের নির্দেশ দেন। এর গুরুত্ব এত বেশি ছিল যে, ওই মাসে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও আগেই বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের মনোভাব জানার বিষয়ে উদগ্রীব ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ইরানের সরকারকেও ভারতের হস্তক্ষেপের আশঙ্কার বিষয়টি জানিয়েছিল। ভারত যাতে হস্তক্ষেপের মতো কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে সেজন্য ইরানের সরকারকে ভারতকে বোঝানোর আহবান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এ বিষয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করেছিল। কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারত তখন একই স্রোতের ছিল। ইরানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রিচার্ড হেলম্ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আলী খালাতবারির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। রিচার্ড পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের উদ্বেগের বিষয়টি জানান এবং ইরানকে ঢাকা ও দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে উদ্বেগ নিরসনের আহবান জানান। সোভিয়েত ইউনিয়নে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ওয়াল্টার জে স্টোসেল ইউনিয়নের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলি ফিরিউবিনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ভারত যাতে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ না করে সেজন্য ইউনিয়নকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান ওয়াল্টার জে স্টোসেল। তবে নিকোলি এ সময় তাকে পুরোপুরি আশ্বস্ত করেননি। বরং তিনি বলেন, তারা ভারতকে এ কাজে উত্সাহ দেবেন না। কিন্তু ভারতকে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে তারা খুব বেশি কিছু করবেন না।