চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত দেড় শতাধিক, আহত কয়েক হাজার

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ সিচুয়ানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৫৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এতে বহু বাড়ি-ঘর ধ্বংস হয়েছে। উদ্ধার কাজে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ভূমিকম্পে হতাহতের এ সংখ্যা জানানো হয়েছে। চীনের স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৮টা দুই মিনিটে সিচুয়ানের ইয়ান শহরের নিকটবর্তী লুসান এলাকায় এই ভূমিকম্প হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক রাজধানী চেংদুর ১১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় এই ভূমিকম্পের উত্পত্তি হয়। এর কেন্দ্র ?ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথমে সংস্থাটি ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ এর কথা জানালেও পরে এই মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে জানায়। ভূমিকম্পে দুর্গত এলাকার বিদ্যুত্ ব্যবস্থা, ট্রেন চলাচল, পানি সরবরাহ ও টেলিফোন সংযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং অধিক মানুষের মৃত্যু এড়াতে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে উদ্ধার তত্পরতা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সিনহুয়া জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য ছয় হাজার সেনা দুর্গত এলাকায় গেছে। নিহতদের বেশিরভাগই লুসান এলাকার। হাসপাতালে আহতদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও কর্মকর্তারা। স্থানের অভাবে হাসপাতালের বাইরে তাঁবু টাঙিয়ে অনেককে চিকিত্সা দেয়া হয়। ১৫ লাখ ৩০ হাজার বাসিন্দার ইয়ান শহরটি প্রাদেশিক রাজধানী চেংদু থেকে ১শ’ ৪০ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি জায়ান্ট পান্ডার বাসস্থান হিসেবে পরিচিত। চীনের বিখ্যাত পান্ডা প্রজনন কেন্দ্র বাইফেঙ্গজিয়া জায়ান্ট পান্ডা প্রকল্পটি ভূমিকম্প কেন্দ্রের মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে ভূমিকম্পে প্রকল্পে কোনো কর্মী বা পান্ডা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এর আশপাশের এলাকাগুলোতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল থেকে ১শ’ ৪০ কিলোমিটার দূরের শহর চেংদুর এক বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের ১৩ তলায় ছিলেন। ভবনটি প্রায় ২০ সেকেন্ড ধরে কাঁপে এবং এ সময় পাশের ভবন থেকে টাইলস খুলে পড়তে দেখা যায়। এ এলাকায় প্রায় দুই হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।