জামায়াত ও হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১০
চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ও জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আল কাদেরী বলেছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত একটি সংগঠিত শক্তি। এ শক্তির সমর্থন ছাড়া কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তিনি বলেন, কওমী মাদরাসাগুলো ইসলাম রক্ষার নামে দেশে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। তিনি এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য দেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আত আয়োজিত সুন্নি মহাসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। নাস্তিক্যবাদী ব্লগারদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং জামায়াত-হেফাজতে ইসলামের জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে অমুসলিম ঘোষণা করেন। তারা আল্লামা শফীকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আতের আলেমদের কাছে গিয়ে তওবা করে পুনরায় মুসলিম হওয়ার আহ্বান জানান। সমাবেশে জামায়াত-হেফাজত ছাড়াও দেশে তাবলিগ জামায়াতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সমাবেশে ‘হেফাজতে ইসলাম ও নাস্তিক ব্লগার একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ, যুগে যুগে দাজ্জালের পূর্বসূরি খারেজি ফিত্না’ শীর্ষক একাধিক পুস্তিকা বিতরণ করা হয়। এছাড়া আগামী ২৫ মে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশ থেকে ১২ দফা দাবি ঘোষণা করেন অধ্যক্ষ আল্লামা আবুল ফরাহ মুহাম্মদ ফরিদউদ্দিন। এসব দাবির মধ্যে ধর্মীয় দাবির পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক দাবিও রয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: খোদাদ্রোহী, নবী-ওলীদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারদের ইসলাম অবমাননার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির আইন প্রণয়ন, সংবিধানে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনরায় সংযোজন, সকল রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপের মাধ্যমে চলমান গভীর সংকট থেকে উত্তরণের পদক্ষেপ গ্রহণ, আইন করে হরতাল বন্ধ করা, গৃহীত নারীনীতি থেকে কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী অংশ বাদ দেয়া, জঙ্গি তৈরির কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত ওহাবীবাদী কওমী মাদরাসাসমূহ সরকারি সিলেবাসের আওতাভুক্ত করে অভিন্ন মাদরাসা শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা, ইসলামের নামে চলমান হেফাজত-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন, তাবলিগ জামায়াতের আড়ালে জঙ্গিবাদী তালেবানি অনুপ্রবেশ রোধে সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসলামী শিক্ষাদানে উপযুক্ত কামিল, ফাজিল পাস শিক্ষক নিয়োগদান ও পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামের আকীদা পরিপন্থি ও চিহ্নিত বিধি-বিধানের বিকৃতি সংশোধন করা, নাস্তিক মওদুদী, ওহাবী, কাদিয়ানিসহ সকল ভ্রান্ত মতবাদের প্রকাশনা বাতিল করা, মিয়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ও মুসলিমদের ওপরে চলমান সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘ, বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুন্নি ওলামা মাশায়েখ ও বিভিন্ন মাজার ও খানকাসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সমাবেশে বাংলাদেশ ত্বরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই কওমী মাদরাসাগুলোর সাথে আলোচনায় বসেছিল। অথচ আজ ওই কওমী মাদরাসাওয়ালারাই সরকারের গদি ধরে টানাটানি করছে। তিনি সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হামলার ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম জড়িত ছিল দাবি করে বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা চুড়ি পরে বসে আছে। আমরা চুড়ি পরে বসে থাকব না। যেখানে হেফাজত আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করবে, সেখানেই তাদের প্রতিহত করা হবে। এজন্য তিনি দেশের সকল মাদরাসা ও খানকায় দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি কওমী মাদরাসার নিজস্ব সনদ বাতিল করে এসব মাদরাসাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানান। তিনি হেফাজতের আমীর আল্লামা আহমদ শফীর সাথে মন্ত্রীসহ সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠকের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে হেফাজত নেতাদের বিচার দাবি করেন। তিনি সুন্নি আলেমরা যেখানে বলবেন সেখানেই ভোট দেয়ার জন্য সমাবেশের প্রতি আহ্বান জানান।
মাওলানা এমএ মতিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাশেমী, আল্লামা মুফতি ইদরিস রজভি, আল্লামা আজিজুল হক আল কাদেরী, আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী, আল্লামা সাইফুর রহমান নিজামী শাহ। অধ্যক্ষ আল্লামা সৈয়দ নূরুল মুনাওয়ারের আহ্বানে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ স্থলে আইন-শৃৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ সময় লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।