মোমিনা বেগম কলেজ ছাত্রী। বাবা-মায়ের অভাবের সংসার। তাই নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে তিনি যোগাড় করেছেন টুপি কারখানায় কাজ (ক্যাপ)। ওই কারখানাটি নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের অদূরে চৌমুহনী বাজারে গড়ে উঠেছে। মোমিনার মতো শিক্ষার্থী তানজিনা, শহিদুল ইসলাম, ফিরোজরাও করেন টুপি তৈরির কাজ। মেহেদী ক্যাপ হাউস, প্রতিষ্ঠানটির নাম। এখানে ধুমসে তৈরি হচ্ছে নানা রকম টুপি। ওই কারখানায় অনেক শিক্ষার্থী প্রতিবন্ধী খণ্ডকালীন কাজ করে। ফলে কারখানাটির নাম ছড়িয়ে পড়েছে এ অঞ্চলে।
সৈয়দপুর-পার্বতীপুর মহাসড়কের পাশে বছর পাঁচেক আগে গড়ে ওঠে ওই ক্যাপ কারখানাটি। ওই এলাকার বাসিন্দা তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান কারখানাটি গড়ে তোলেন। তার উদ্দেশ্য এলাকায় বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কারখানাটিতে ছাত্র-ছাত্রী, প্রতিবন্ধী ছাড়াও ৩৫ জন বেকার তরুণের কাজ জুটেছে।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, একদল তরুণ-তরুণী টুপি তৈরিতে ব্যস্ত। তারা তৈরি করছে ক্রিকেট ক্যাপ, নৌবাহিনীর ক্যাপ, আম্পায়ার হেড ইত্যাদি। এসব ক্যাপের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশে। কারখানাটির মালিক মেহেদী হাসান জানান, তার কারখানায় টুপি তৈরির উপযোগী ১৮টি মেশিন রয়েছে। আরো রয়েছে কাটিং মেশিন, লক মেশিনসহ অন্যান্য মেশিনপত্র। এসব দিয়ে স্বয়ংক্রিয় উপায়ে তৈরি হয় সুন্দর সুন্দর ক্যাপ। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ সমাজ ফ্যাশন হিসেবেও এসব ক্যাপ ব্যবহার করে থাকে। প্রতিদিন ৮০০-১,৫০০ ক্যাপ তৈরি হয় এখানে। শীতকালে শীতের কানঢাকা টুপি, হ্যান্ড গ্লাভস ইত্যাদি তৈরি হয় ওই কারখানায়। পাশের লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী মমিনা বেগম মেশিন চালাচ্ছিলেন একমনে। তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানান, তার বাবা গরুর হাটে মহাজনের গরু বিক্রি করেন। তিন ভাইবোন তার। তারা সকলেই লেখাপড়া করে। অসচ্ছল বাবার একার আয়ে সংসার চলে না। তাই টুপি কারখানায় কাজ জুটিয়েছেন। এতে কাজের উপর মাসে পাঁচ/ছয় হাজার টাকা আয় হয় তার।
টুপি কারখানার ব্যবস্থাপক আহমেদ আলী জানান, এ কারখানার উত্পাদিত টুপি ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাতে যাচ্ছে। কারখানাতেই কথা হয় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা টুপি পাইকারদের সাথে। এদের একজন হলেন জয়পুরহাটের সোহেল রানা। তিনি বলেন, এখানকার টুপি অনেক মানসম্পন্ন। এর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। মাসখানেক আগে অর্ডার দিয়েও ঠিকমতো ডেলিভারি পাচ্ছি না। কারখানাটি আরো বড় হওয়া দরকার।
বাঙালিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণোবেশ চন্দ্র বাগচী জানান, টুপি কারখানাটি ভালোই চলছে। এখানকার টুপি ঢাকায় যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার। সহজশর্তে ব্যাংকগুলো কারখানাটিতে যদি ঋণ দেয় তাহলে এর পরিসর অনেক বেড়ে যাবে।
সৈয়দপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের আশান্বিত করে। যে কোনো ভালো কাজে উত্সাহিত করা দরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা থাকবে।