ঢাকা অবরোধে বাধা দিলে দেশ অচল করে দেব
রেজাউল করিম ও এনামুল হক, খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১২
হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ঘোষিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহবান জানিয়ে বলেছেন, আগামী ৫ মে রাজধানী ঢাকা অবরোধে বাধা দিলে সারাদেশ অচল করে দেয়া হবে। সরকারের পতন ঘটিয়ে হেফাজতে ইসলামের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে। এদেশ আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখদের দেশ। নাস্তিক-মুরতাদদের আস্ফাালন দেখার জন্য এদেশ স্বাধীন করা হয়নি। গতকাল শনিবার নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড় চত্বরে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত খুলনা বিভাগীয় মহাসমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।
মহাসমাবেশে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর শাইখুল হাদীস আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী বলেন, নাস্তিক-মুরতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ১৩ দফা দাবি এদেশের তৌহিদী জনতার দাবি, ঈমান রক্ষার দাবি। এ দাবি মেনে নিন। অন্যথায় আগামী ৫ মে রাজধানী ঢাকা অবরোধ করা হবে। আমাদের এ আন্দোলন ঈমানী আন্দোলন। এ আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা পিছু হটবো না।
হেফাজতে ইসলামের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সাবেকমন্ত্রী অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, ক্ষমতায় থাকতে হলে ১৩ দফা দাবি মানতে হবে। আবার কাউকে ক্ষমতায় আসলে হলে তাদেরকেও ১৩ দফা দাবি মেনে নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে। এ দাবি না মেনে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না।
সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি দ্বৈতনীতি গ্রহণ করেছেন। একদিকে আপনি নাস্তিক ব্লগারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন, অন্যদিকে মদিনা সনদের নামে দেশ চালানোর কথা বলছেন। এটা ভণ্ডামী।
উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা নবীজীর জন্য জীবন দিব, প্রয়োজনে শহীদ হবো। তবু নবীজীর ইজ্জত রক্ষা করবো।
হেফাজত নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের কেবলা দিল্লী আর আমাদের মদিনা। আমরা নাকি ঢাকার মহাসমাবেশ শেষে লেজ গুটিয়ে চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলাম। কারা লেজ গুটিয়েছে তা আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধের দিন দেখা যাবে। নেতৃবৃন্দ রাশেদ খান মেননকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার পিতা ছিলেন মুসলিম জাগরণের নেতা। আর আপনি বলেন, হেফাজতের প্রতি সরকার নমনীয়। আপনি আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছেন।
বক্তারা বলেন, দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের কণ্ঠ। নাস্তিক-মুরতাদদের দাবি মেনে তাকে আটক করে সরকার ইসলামের কণ্ঠকে বন্ধ করে দিতে চায়।
বক্তারা বলেন, নাস্তিক শাহরিয়ার কবির, মুনতাসির মামুন, ইমরান এইচ সরকার আলেম-ওলামাদের এই দেশে বাস করতে চাইলে তাদের ইসলাম নিয়ে বাস করতে হবে। নইলে তসলিমা নাসরিনের মত দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর হেফাজতে ইসলামের আহবায়ক আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুস্তাক আহমেদ।
মহাসমাবেশে মানুষের ঢল
খুলনায় হেফাজতে ইসলামের বিভাগীয় মহাসমাবেশ ডাকবাংলো চত্বরে শনিবার ফজর নামাযের পরই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় মহাসমাবেশ শুরু হয় সকাল ১০টায়। হেফাজত নেতা হাফেজ ক্বারী মোঃ শামসুল হকের কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
দুপুর ১২টার মধ্যেই ডাকবাংলো চত্বরসহ আশপাশের সড়ক মহাসড়কে মানুষের ঢল নামে। খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ স্থলে আসেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সমাবেশ স্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
গ্রাম থেকে গাড়ির বহর
খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ আশপাশের জেলাগুলির প্রায় প্রতিটি গ্রাম থেকে বাস-ট্রাক ভরে শত-সহস্র মানুষ সকাল থেকে হেফাজতের মহাসমাবেশে যোগ দিতে খুলনায় আসেন। বাস-মিনি বাস আগে থেকে রিজার্ভ করা থাকায় এসব অঞ্চলের আন্ত:জেলা সড়কগুলিতে জনপরিবহনের সংখ্যা ছিল অন্যদিনের তুলনায় বেশ কম। এতে সাধারণ যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।