জাতীয় কনভেনশন ডেকে গ্রহণযোগ্য সরকারের রূপরেখা দিন :ড. কামাল
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১৪
দেশকে সংঘাতের কবল থেকে মুক্ত করতে জনগণের ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন্ পদ্ধতির সরকারের অধীনে হবে তা জনগণকেই নির্ধারণ করতে হবে। তাদের মধ্যে দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোসহ সকল পেশার জনগণকে নিয়ে জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা ঠিক করা যেতে পারে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে কী থাকবে না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গণভোট দেয়া উচিত। আর দেশের শীর্ষ দুই নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আপনারা ভালো হয়ে যান, অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আপনাদের ভালো করব।
গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ চত্বরে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, যুদ্ধাপরাধীদের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের কনভেনশন’ শীর্ষক সমাবেশের আয়োজক ছিল গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গণফোরাম প্রধান ড. কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় স্বার্থেই জাতীয় কনভেনশনে সংলাপের মধ্য দিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা বের করতে হবে। অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসী এবং সংবিধানের প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বস্ত দেশের সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক, পেশাজীবী, মানবাধিকার, নারী, শ্রমিক ও সচেতন নাগরিক সমাজকে নিয়ে জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচন চলাকালে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও একটি দলনিরপেক্ষ সরকার দায়িত্ব পালন করুক, এটাই জনগণ চায়।
দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, দুই দলের জন্য নতুন করে তর্কশাস্ত্র লিখতে হবে। কারণ তারা তর্কশাস্ত্রের কোনো নিয়মই মানে না, মানতেও চায় না। বিরোধী দলে থাকলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে বলে, আর সরকারে থাকলে তত্ত্বাবধায়কের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন - সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। অন্যদিকে শেখ হাসিনা বলেছেন - বিএনপি নেত্রীর মাথায় সাপের ঝাঁপি। এমন অবস্থায় তাদের মধ্যে সংলাপ হবে না, হবে সাপের লড়াই। তার মতে, দুটি দল চূড়ান্তভাবে জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। এখন জনগণকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, বর্তমান সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জনগণের অর্থে পরিচালিত সংসদ এভাবে অকার্যকর হয়ে পড়লে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ কী? সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, লেখক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ড. শাহ্্দীন মালিক প্রমুখ।