সুমির সাহসিকতায় ভীত ওয়ালমার্ট
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৫০
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের সুমি আবেদীনের দুঃসাহসী অভিযানে ভীত হয়ে পড়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ ওয়ালমার্টের মত একটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদ্বয়। তাকে দেখে অনেকটা চাচা আপন প্রাণ বাঁচা অবস্থা হয়েছিল ওয়ালমার্টের ভাইস প্রেসিডেন্টে’র। এছাড়া ওয়ালমার্টের পরিচালনা পর্ষদের অন্য এক সদস্য সুমিকে দরজার মুখোমুখি দেখতে পেয়ে দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন। আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সেই ভয়াল রাতে সাততলা ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন সুমি আবেদীন। প্রাণে বেঁচে গেলেও একটি হাত ও একটি পা ভেঙ্গে দীর্ঘদিন সয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। তারপর সেই ভাঙ্গা হাত পা নিয়েই তাজরীন গার্মেন্টসসহ বাংলাদেশের লাখ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রতিনিধি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টে অবস্থান করেন এই ২৪ বছর বয়সী তরুণী সুমী। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের নারী শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আক্তার। এই দুই সাহসী তরুণী সম্প্রতি ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, পরে সেখান থেকে আরকানসাসে ওয়ালমার্টের গ্লোবাল হেডকোয়ার্টারে যান। ওয়ালমার্টে সুমির অবস্থানের কথা শুনে প্রতিষ্ঠানটির কর্তা ব্যক্তিরা অনেকটা ভয়ে মুখোমুখি হননি এই দুই তরুণীর। ওয়ালমার্টের এক কর্মকর্তা জানান, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকটা পথ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এই সাহসী দুই তরুণী। তাদের একটাই দাবি, তাজরীনের হতাহতদের যথার্থ ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ কর্মস্থলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এছাড়া তাজরীনের অগ্নি-দুর্ঘটনায় হতাহতদের দায়িত্ব ওয়ালমার্টকেই নিতে হবে কারণ, ঐ রাতে তাজরীনের শ্রমিকরা ওয়ালমার্টের অর্ডার করা পোশাক তৈরির কাজ করছিলেন। এছাড়া সুমির সাথে রয়েছে, ওয়ালমার্টের ১ লাখ ১৪ হাজার সদস্যের সই করা একটি আবেদন।