কারখানা মালিকদের কাছে জিম্মি পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্র চা চাষিরা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন। ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছেন তারা। এরমধ্যে জেলা কাঁচা চা পাতা মূল্য নির্ধারণ কমিটির নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চা পাতা ক্রয় না করলে কারখানাগুলোতে চা পাতা সরবরাহ বন্ধসহ কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। সোমবার জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান-মাঝিপাড়া মহাসড়কে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে তারা এ আল্টিমেটাম দেন।
ক্ষুদ্র চা চাষিরা জানান, গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চা চাষি, চা বাগান, চা কারখানা মালিক ও চা বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জেলা কাঁচা চা পাতা মূল্য নির্ধারণ কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ২৪ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এ অনুযায়ী চা চাষিরা বিভিন্ন চা কারখানায় চা পাতা সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল থেকে কারখানাগুলো মূল্য নির্ধারণ কমিটির নির্ধারিত মূল্যে (২৪ টাকা ৫০ পয়সা) কাঁচা চা পাতা না কিনে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতা ২০ টাকা করে কিনছে। চা কারখানা মালিকগুলো তাদের মনগড়া কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণ করার প্রতিবাদে জেলার ক্ষুদ্র চা চাষি ও শ্রমিকরা প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র চা চাষি জানান, ব্রিটিশরা যেমন নীল চাষিদের ওপর অত্যাচার করতো, বর্তমানে চা কারখানার মালিকরা তেমনিভাবে চা চাষিদেরকে জিম্মি করে রেখেছেন।
ক্ষুদ্র চা চাষি আব্দুল্লাহ আল মামুন, দেলোয়ার হোসেন, মতিয়ার রহমানসহ কয়েকজন চা চাষি জানান, অর্থকরী ফসল চা চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছি আমরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট তৈরি করে আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। জেলা কাঁচা চা পাতা মূল্য নির্ধারণ কমিটির সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সাড়ে ৪ টাকা কম মূল্যে কাঁচা চা পাতা কিনছে। প্রতিবাদ করলে পাতা কিনছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ।
জেলা স্মল ট্রি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ফরমান আলী জানান, গাছ থেকে কাঁচা চা পাতা তুলে বেশিক্ষণ রাখা যায় না। এ কারণে বাধ্য হয়েই তাদের কথামতো চা পাতা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছি। পাতা তুলে ফেলে দেওয়া বা কম দামে কাঁচা চা পাতা বিক্রি করা দুটোই আমাদের কৃষকদের জন্য ক্ষতি। এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাঁচা চা পাতা ক্রয় না করলে আমরা আবারো আন্দোলন সংগ্রামে ফিরে যাবো।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য নর্থ বেঙ্গল সেন্ট্রাল টি ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এদিকে ওইদিন পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের শালবাহান মাঝিপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্মল ট্রি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হবিবর রহমান হবি, জেলা স্মল ট্রি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল উদ্দিন, জেলা স্মল ট্রি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফরমান আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।