চলন বিলের বারুহাস মেলা

চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী বারুহাস মেলা শুরু হবে আগামী ২৫ এপ্রিল। প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো এই মেলার বড় আকর্ষণ হলো দেশি প্রজাতির বড় মাছ, নানান স্বাদের দই-মিষ্টি, রঙিন ঝুরি, চিনির তৈরি সাইচ, কাঠের ফার্নিচার, নানানরকম ঘুড়ি, হরেক রকম খেলনা সামগ্রী এবং পরের দিন বউমেলা। চলনবিল অধ্যুষিত গ্রাম-বাংলার এই সামাজিক উত্সবকে ঘিরে বারুহাসসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে এখন থেকেই শুরু হয়েছে সাজ-সাজ রব। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ঐতিহ্যবাহী এই মেলার নির্ধারিত কোনো জায়গা নেই। আগে বারুহাস জমিদার বাড়ি সংলগ্ন খোলা মাঠে মেলার মূল জায়গা হিসাবে নিয়মিত মেলা অনুষ্ঠিত হলেও পৃষ্ঠাপোষকতার অভাবে বিগত কয়েক বছর ধরে এখানে আর মেলা অনুষ্ঠিত হয় না। এখন মেলা বসে রাস্তার দু-ধার ঘেঁষে ও স্কুল মাঠে। এই জায়গা সংকটের কারণে প্রতিবছর মেলায় আসা দর্শনার্থীসহ ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ কারণে শত বছরের এই লোকজ সংস্কৃতি একদিকে যেমন তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে অন্যদিকে তেমনি তার ঐতিহ্যও হারিয়ে যাচ্ছে। এই হারানো ঐতিহ্যের মধ্যে ঘোড়দৌড় অন্যতম। প্রায় দু’দশক ধরে মেলার পরের দিন বিপুল দর্শক নন্দিত ঘোড় দৌড় আর হয় না। কালের বিবর্তনে সেসঙ্গে বিলুপ্তি ঘটেছে পুতুল নাচ, ভেলকিবাজি, সার্কাস ও যাত্রাপালা। মূলত দেশি সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থেই আমাদের এই সামাজিক মেলা উত্সব টিকিয়ে রাখা দরকার। তাই মেলার জায়গা নির্ধারণসহ এর সার্বিক উন্নয়নে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান করছি। সৌরভ সোহরাব, আয়েশ, সিংড়া, নাটোর