উখিয়ায় স্লুইস গেট অকার্যকর রেখে খাল থেকে অবাধে বালি উত্তোলন

উখিয়ায় বোরো মৌসুমে ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত স্লুইস গেট অকার্যকর করে রেখে খাল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে চলেছে একটি অসাধু চক্র। যে কারণে সেচের অভাবে চলতি মৌসুমে প্রায় ২শ’ একর জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হয়নি। খাল থেকে যথেচ্ছ বালি উত্তোলনের ফলে দু’পাশের পাড়ও ভেঙ্গে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১১-১২ অর্থবছরে ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কৃষ্ণ কুমারী খালের উপর ও রত্নাপালং ইউনিয়নের গয়ালমারা খালের উপর দু’টি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল উজানে বাঁধ দিয়ে বেআইনীভাবে বিএডিসি নির্মিত স্লুইস গেট দুটি বন্ধ রেখে অবাধে খাল থেকে বালি উত্তোলন ও বিক্রি করে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষক আজিজুর রহমান (৫৫), মৌলভী আবদুর রহিমসহ (৪০) একাধিক কৃষক জানান, ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি কৃষ্ণ কুমারী খালের উপর নির্মিত স্লুইস গেট সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। উক্ত মৌসুমে প্রথমবারের মত কৃষকরা স্লুইস গেটে মজুদকৃত পানি সেচ দিয়ে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে ভালো ফলন পায়। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের লক্ষ্যে চাষাবাদের মৌসুমের শুরুতেই খালের উজানে বাঁধ দেয়ায় স্লুইস গেটের অভ্যন্তরে পানি জমতে পারেনি। ফলে খাল একেবারে শুকিয়ে যায়। প্রভাবশালীরা অবাধে বালি ও মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করায় খালের পাড় ভেঙ্গে পড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় খাদের। স্থানীয় লোকজনের আশংকা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে খালের পাড় ভেঙ্গে মানুষের ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়া ও খাল পাড়ের রাস্তা বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, উক্ত খালের উপর নির্মিত ‘ডাবল লিফটিং’ স্লুইস গেট নির্মাণের ফলে গত বোরো মৌসুমে স্থানীয় কৃষকরা ফসল চাষাবাদ করে লাভবান হয়েছিল। কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় খালের উজানে বাঁধ দেয়ার কারণে স্লুইস গেটগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে সেচের অভাবে এই অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। উখিয়া সদর তহসিলদার কাজল কান্তি দাশ বলেন, কৃষ্ণ কুমারী খাল থেকে বালি উত্তোলনের জন্য কাউকে ইজারা দেয়া হয়েছে বলে আমার জানা নাই।