কাফরুলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ছাত্রলীগ নেতা বাবু নিহত

রাজধানীর কাফরুলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা একে এম ফজলুল হক পাটোয়ারী বাবু (২৪)। তিনি ছিলেন ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ও মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিবিএ-এর ছাত্র। মোটর সাইকেলে করে আসা মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে । পাঁচটি গুলি তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয়। এসময় বাবু একটি গ্যারেজে বসে তার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। রবিবার সকালে পূর্ব কাজীপাড়ার ইটখোলা জামে মসজিদের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শেওড়াপাড়া সড়ক দুই ঘন্টা অবরোধ করে রাখে ও গাড়ী ভাংচুর করে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ ও পারি-বারিক সূত্র ধারণা করছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত-ভাবে বাবুকে হত্যা করেছে। নিহত বাবুর বাবা হেমায়েত উল্ল্যাহ পাটোয়ারী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, বাবুকে সকাল সাড়ে দশটার দিকে বাসা থেকে ডেকে নেয় তার বন্ধু জাহাঙ্গীর হোসেন। পরে তারা ওই গ্যারেজে বসে কথা বলছিল। এসময় মোটর সাইকেলে আসা দুই যুবক বাবুকে লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হত্যার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাবুর মামাতো বোন শিউলি সম্প্রতি পূর্ব কাজীয়পাড়ার বাসিন্দা মফিজুর রহমানের কাছ থেকে তিন কাঠা জমি কেনে। কিন্তু মফিজুর রহমানের ছেলে টিটুর জমির দখল দিতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে টিটুর সঙ্গে বাবুর বিরোধ চলছিল। তিনি ধারণা করছেন, এ কারণে টিটু ভাড়া খুনি দিয়ে বাবুকে হত্যা করে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, টিটু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। বাবু তাকে দু’দফায় পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। এ কারণেও টিটু ক্ষুব্ধ ছিল বাবুর উপর। ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম রবিউল ইসলাম সোহেল সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকদিন আগে ঐ এলাকার কয়েকটি ছাত্রাবাস থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মীকে পুলিশে ধরিয়ে দেয় বাবু। এর জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডটি হয়ে থাকতে পারে। নিহত বাবুর বন্ধু জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মহল্লায় তাদের একটি নিজস্ব সমিতি রয়েছে। এ সমিতির হিসাব নিয়ে কথা বলার জন্য সকালে বাবুকে বাসা থেকে ডেকে এনেছিলেন। তারা দুইজন গ্যারেজে বসে কথা বলার সময়ই বাবুকে গুলি করা হয়। এ দিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা দুপুরে মিরপুর-১৪ থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর ও টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। এ সড়কে প্রায় দুইঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের অনুরোধে তারা অবরোধ তুলে নেয়। কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুর বন্ধু জাহাঙ্গীর হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহতের শরীরে পাঁচটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। তবে এর পেছনে অন্যকোন কারণ আছে কীনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত বাবুর বাসা ৫২৭, সেনপাড়া পর্বতা। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার নলুয়া। দুই ভাই বোনের মধ্যে সে ছিল বড়। যুবকের লাশ উদ্ধার শাহবাগ থানা পুলিশ গতকাল দুপুরে ওসমানি উদ্যানের পাশে হাসানের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাসানের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। মৃতদেহের কপাল ও মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসানের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার হাঞ্জরপুর। পিতা আহম্মদ আলী। তিনি রেলওয়ে কলোনী এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাস করতেন। শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।