দিল্লি এবং মধ্যপ্রদেশে আবারো ধর্ষণ, ফুঁসে উঠেছে জনতা
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৮
ভারতের নয়া দিল্লিতে এক তরুণীকে এবং মধ্যপ্রদেশে চার বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ফুসে উঠছে জনতা। সরব হয়েছেন রাজনীতিবিদরাও। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
গত ১৫ এপ্রিল দিল্লির গান্ধী নগরে পাঁচ বছরের এক শিশুকে দু’দিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন করে ধর্ষকরা। গত ১৫ মার্চ পূর্ব দিল্লির ফারস বাজার এলাকা থেকে এক তরুণীকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। এরপর আটজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। কিন্তু এতদিন ওই যুবতী কিংবা তার পরিবার এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। শনিবার সে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলে বিষয়টি জানা যায়। তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে আইসিইউতে চিকিত্সাধীন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মা জানিয়েছেন, পাঁচ বছরের শিশুর ধর্ষণের খবর টেলিভিশনে দেখে তার মেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিল। মধ্যপ্রদেশের নাগপুরে চার বছরের এক শিশুকে গত বুধবার ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালের ডাক্তার জানিয়েছেন, তার অবস্থা সংকটজনক।
ধর্ষণের ঘটনায় নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস হাসপাতালের সামনে, ইন্ডিয়া গেটের কাছে এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। প্রতিবাদকারীরা দিল্লির পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছে। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ করেছে নারী সংগঠনের কর্মীরা। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতা সুষমা স্বরাজ ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তাকে সমর্থন করেছেন সিপিএম নেতা সিতারাম ইয়েচুরি। সুষমা স্বরাজ ধর্ষণবিরোধী আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি সংযুক্ত করতে সব দলের সমন্বয়ে একটি বৈঠক ডাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এধরনের বর্বরোচিত ঘটনা বন্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।