ভারতের সেই ‘হিউম্যান কম্পিউটার’ শকুন্তলা দেবী আর নেই
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৯
ভারতের ‘মানবী কম্পিউটার’ হিসেবে পরিচিত সেই শকুন্তলা দেবী আর নেই। গতকাল রবিবার ব্যাঙ্গালোরে নিজের বাড়িতে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ১৯২৯ সালের নভেম্বরে জন্ম নেয়া এই নারী গণিতে অবিশ্বাস্য ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, যে কারণে তিনি মানবী কম্পিউটার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। গিনেস বুকেও তার নাম উঠেছিল।
শকুন্তলাকে কম্পিউটারের সাথে তুলনা করা হলেও বাস্তবে গণিতে তিনি ছিলেন সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে বেশি ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন। কম্পিউটারের চেয়ে কম সময় নিতেন তিনি বিশাল বিশাল অঙ্কগুলোর উত্তর বের করতে। এক অঙ্কের, দুই অঙ্কের, দশ অঙ্কের, পঞ্চাশ অঙ্কের, একশ’ অঙ্কের, দুইশ’ অঙ্কের সংখ্যা দিবেন তাকে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, বর্গ, বর্গমূল কিংবা ঘনমূল বের করতে? তিনি তার উত্তর বের করতে বড়জোর কয়েক সেকেন্ড সময় নিতেন! অথচ তিনি লেখাপড়া তেমন একটা শিখতে পারেননি। তিন বছর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে রাস্তায় রাস্তায় তাসের খেলা দেখিয়ে বেড়াতেন।
গণিতের যাদুকর : ফুটপাতে তাসের খেলায় বাবাকে সাহায্য করতেন শকুন্তলা। হাতের কারসাজির চেয়ে তাসের ফোটা মুখস্ত করেই বাবার চেয়ে দর্শকদের বেশি আনন্দ দিতেন তিনি। ছয় বছর বয়সে গণিতে তার অসাধারণ দক্ষতা ধরা পড়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় একের পর এক তার অঙ্কের মেধার পরীক্ষা নিতে থাকে। প্রতিবারই তার জয় হয়। ১৯৭৭ সালে আমেরিকার ডালাসে প্রথমবার তিনি কম্পিউটারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন। ১৮৮১৩৮৫১৭ সংখ্যাটির ঘনমূল তাকে এবং একটি কম্পিউটারকে বের করতে বলা হয়। তিনি কম্পিউটারের আগে বের করে ফেলেন। তাকে কিছুতেই হারাতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১টি অঙ্ক দিয়ে একটি সংখ্যা তৈরী করে তার ২৩তম বর্গমূল কত তা বের করতে বলে! ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে শকুন্তলা উত্তর দেন; ৫৪৬৩৭২৮৯১। উত্তর সঠিক হলো নাকি ভুল হলো তা বের করা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ ২০১ অঙ্কের সংখ্যার বর্গমূল বের করে তার বর্গমূল...তার বর্গমূল এভাবে ২৩ ধাপ পর্যন্ত খাতা কলমে হিসাব বের করতে গেলে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। সঠিক হবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই সাহায্য নেয়া হলো ইউনিভ্যাক ১১০৮ কম্পিউটারের। কম্পিউটারটি ৬০ সেকেন্ড ধরে হিসাব করে জানালো উত্তর সঠিক। অর্থাত্ শকুন্তলার চেয়ে ১০ সেকেন্ড বেশি সময় নিয়ে উত্তর বের করে সে। আর যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে এই উত্তর বের করা হয়েছিল সেই সফটওয়্যারটি তৈরী করতে প্রোগ্রামাররা ১৩ হাজার নির্দেশনা ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৮০ সালের জুন মাসে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট তার পরীক্ষা নেয়। কম্পিউটার দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১৩ অঙ্কের দুটি সংখ্যা তৈরী করে শকুন্তলাকে সংখ্যা দুটি গুণ করতে বলে। তিনি সাথে সাথে উত্তর বলা শুরু করেন। গুণফলের ২৬ অঙ্কের সংখ্যাটি বলে শেষ করতে তার ২৮ সেকেন্ড সময় লাগে। ১৯৯৫ সালে তার নাম প্রথম ওঠে গিনেস বুকে। সূত্র : উইকিপিডিয়া।