ধূসর খঞ্জন দেখতে সুন্দর, গায়ও ভালো

শীতে পরিযায়ী হয়ে আসে আমাদের দেশে। ছোটখাট ঝোপঝাড় অথবা জলাশয়ের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এদের শিকারের উপযুক্ত স্থানই হচ্ছে জলাশয় ও তার আশপাশের এলাকা। তবে ওরা পানিতে নেমে শিকার ধরে না কখনো। পানির কাছাকাছি থেকে পোকামাকড় খুঁজে বেড়ায়। দেখতে ভীষণ সুন্দর। সরু, আটোসাটো গড়ন। প্রজাতির অন্যদের তুলনায় এরা বেশি সুন্দর। ভারী চঞ্চল। কণ্ঠস্বরও চমত্কার। ডাকে ‘ছিছিক-ছিক’ করে। কখনো ‘টিজি ডিজিট সিং ছিপ’ করেও ডাকতে শোনা যায়। আবার প্রজনন সময় ঘনঘন দম নিয়ে সুর করে ডাকে ‘জি জি’। তখন বেশিরভাগ সময় উড়তে উড়তে ডাকে। তবে প্রজননকালে এরা সাধারণত এ দেশে থাকে না, তখন পাড়ি জমায় নিজ বাসভূমি ইউরোপ, আফ্রিকায়। বাংলা নাম:‘ধূসর খঞ্জন’, ইংরেজি নাম:‘গ্রে ওয়াগটেইল’, বৈজ্ঞানিক নাম: Motacilla Cinerea। দেশে প্রায় আট রকমের খঞ্জন দেখা যায়। সেগুলো হল: বনখঞ্জন, সাদা খঞ্জন, বড় পাকড়া খঞ্জন, পাকড়া খঞ্জন, ধূসর খঞ্জন, হলুদ খঞ্জন, হলদে মাথা খঞ্জন ও কালো মাথা খঞ্জন। বড় পাকড়া খঞ্জন ছাড়া অন্যরা পরিযায়ী। কয়েক ধরনের খঞ্জন এ দেশেই বাসা বেঁধে ডিম ফোটায়। ধূসর খঞ্জন লম্বায় ১৭-১৮ সেন্টিমিটার। শুধু লেজই ৯ সেন্টিমিটার। ঠোঁট নীলচে ধূসর। মাথা, পিঠ, লেজের উপরিভাগ ধূসর। ডানা ও লেজ কালোর ওপর সাদা ডোরা। ডানার নিচ থেকে লেজের শেষ শেষাংশ পর্যন্ত পরিষ্কার হলুদ। ডানার প্রান্তটা কালচে। গলা সাদাটে। পেট ও লেজের নিচটা হলদেটে। স্ত্রী পাখির মাথা কালো, নিচের অংশ হলুদ। থুতনি, গলা কালো। প্রজনন সময়ে গলার কালো রঙ থাকে না। প্রধান খাবার পোকামাকড়। সাধারণত দৌড়ে শিকার ধরে। প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে জুলাই। তখন ইউরোপ ও আফ্রিকার দক্ষিণের দেশগুলোতে অবস্থান করে। মাঝে মাঝে এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ডিম ফোটায়। ডিম পাড়ে ৪ থেকে ৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৩-১৫ দিন।