বিমান বহর থেকে ক্রমান্বয়ে বাদ পড়ছে ডিসি-১০

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর থেকে ডিসি-১০ উড়োজাহাজ ক্রমান্বয়ে বাদ দেয়া হচ্ছে। চারটির মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যে চলাচলের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি একটি স্টান্ডবাই হিসাবে আছে। দীর্ঘদিন ধরে চারটি ডিসি-১০ উড়োজাহাজ দিয়ে বিমান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল। সুপরিসর এসব উড়োজাহাজকে বিমানের মেরুদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হত। কিন্তু এধরনের উড়োজাহাজ পৃথিবীর কোন দেশেই এখন আর চালু নেই। বাংলাদেশ বিমানে চলাচলকারী এ উড়োজাহাজ বর্তমানে গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর এর রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বিপুল অংকের টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়া প্রায় তিন দশকের পুরানো এই উড়োজাহাজের সাম্প্রতিককালে যান্ত্রিক ত্রুটির মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইগামী একটি ডিসি-১০ উড্ডয়নের পর আকাশে মারাত্মক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে যাত্রীসহ বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এরপর বিমান কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটি স্থায়ীভাবে চলাচলের অনুপযোগী (গ্রাউন্ডেড) ঘোষণা করেন। প্রায় এক বছর আগে আরো দুটি ডিসি-১০ গ্রাউন্ডেড করা হয়। এরমধ্যে একটি চালুর উপযোগী করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে মাত্র একটি ডিসি-১০ ‘স্টান্ডবাই’ হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৮৩ সালে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে তিনটি ডিসি-১০ উড়োজাহাজ কেনে। ১৯৮৯ সালে এ ধরনের আরো একটি উড়োজাহাজ কেনা হয়। এরপর ২০০০ সালে তিন বছরের জন্য লিজে আনা একটি ডিসি-১০ বিমান কিনে নেয়। ২০০৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে অবতরণকালে একটি ডিসি-১০ বিধ্বস্ত হয়। পরে তা স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে দেয় বিমান। বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী তিনটি ডিসি-১০ বিমান বন্দরের হ্যাঙ্গারের পাশে পড়ে রয়েছে। এরমধ্যে দুইটি নিলামে বিক্রি করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে বিমান বহর থেকে তিনটি ডিসি-১০ বিদায়ের কারণে বিমানের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন জন স্টিল ইত্তেফাককে জানান, চলতি গ্রীষ্মকালীর সময়সূচিতে বিমান বহরে আরো দুইটি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এ দুটি উড়োজাহাজ সংগ্রহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং কোম্পানির কাছে জরুরি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ দু’টি উড়োজাহাজ আসার পর ফ্লাইট পরিচালনায় আর কোন অসুবিধা থাকবে না।