সোনারগাঁওয়ে চার খুনের রহস্য খুঁজে পায়নি পুলিশ
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩১
গতকাল রোববার বিকাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের স্ত্রীসহ ৪ জনকে নৃশংসভাবে খুনের কোনো রহস্য বের করতে পারেনি পুলিশ। লোমহর্ষক এই ৪ খুন কারা, কী কারণে করেছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন ধারণা দিতে ব্যর্থ সোনারগাঁও থানা পুলিশ। এদিকে ৪ খুনের ঘটনায় গত শনিবার গভীর রাতে নিহত শামীমা আক্তার সুমার ভাই মামুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তার বোন ও ভাইসহ চারজনকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক শাহ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তদল গঠন করা হয়েছে। এদিকে লাশ ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, পুলিশের ব্যর্থতার কারণে দিন দিন সোনারগাঁওয়ে অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোনারগাঁওয়ের কোন হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি ও অপরাধ ঘটলেও রহস্য উদঘাটন ও আসামী ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। তাই এমন শিল্পাঞ্চল এলাকায় প্রবেশ করে খুন করতেও কোন দ্বিধাবোধ করছে না অপরাধীরা।
পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম (বিডিআর) বলেন, আমার স্ত্রী ও শ্যালকের কাছে প্রায় নগদ ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকা ও বাড়ীতে ৫০/৬০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার সময় খুনিদের চিনে ফেলায় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়।
পুলিশ প্রশাসন বলছেন, ঘর থেকে কোন মালামাল খোয়া যায়নি। কিন্তু চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম (বিডিআর) বলছেন তার ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে খুনিরা। ফলে এ বিষটি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান খান বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু বাড়ি থেকে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি বা ঘরে কোনকিছু তছনছও করেনি, তাই চুরি বা ডাকাতির কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। চেয়ারম্যানের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে নিহত দ্বিতীয় স্ত্রী শামীমার পারিবারিক বিরোধ বা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন হয়েছেন কিনা সবকিছু বিবেচনায় এনে তদন্ত করা হচ্ছে। সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলের সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া আলামতের পরীক্ষা রিপোর্ট পাওয়া গেলে হত্যার বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউছরা গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী শামীমা আক্তার সুমা, শ্যালক কুতুব উদ্দিন রানা ও দুই গৃহপরিচারিকা মনি (১৭) ও রেখার (১৩) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ভবনের পৃথক চারটি কক্ষে তাদের গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতের কোন এক সময় এ হত্যাযজ্ঞ ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ।