চার বছরে ব্যাংকের নতুন শাখা দেড় হাজার

বর্তমান সরকারের মেয়াদে ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চার বছরে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক হাজার ৪৪৫টি নতুন শাখা চালু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে অনেকটাই তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন শাখা সমপ্রসারিত হওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো যেমন গ্রামমুখী হয়েছে, তেমনি এতদিন ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সূচকেরও অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ৫২টি তফশিলি ব্যাংকের মোট শাখা রয়েছে ৮ হাজার ৩২২টি। এর মধ্যে সদ্য অনুমোদন প্রাপ্ত ৫টি ব্যাংক এখনও কোন শাখা খুলতে পারেনি। গত ৪ বছরে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের চেয়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো বেশিসংখ্যক নতুন শাখা খুলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের, মেয়াদের প্রথম চার বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ নতুন শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছে, এর আগে কোনো সরকারের মেয়াদে এত বেশি পরিমাণ শাখা খোলার অনুমতি দেয়া হয়নি। বিগত চার বছরের মধ্যে ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শাখা খোলার অনুমতি পায় ব্যাংকগুলো। এ বছর মোট ৪৭১টি শাখা খোলা হয়। এছাড়া দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনারত ৪৭টি তফসিলি ব্যাংক ২০০৯ সালে ৩০১, ২০১১ সালে ৩০৩ এবং ২০১২ সালে ৩৬১টি শাখা খোলে। চার বছরে চার রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী এবং রূপালী ব্যাংক মোট ৯৭টি নতুন শাখা চালু করেছে। অপরদিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খুলেছে এক হাজার ২৪৬টি নতুন শাখা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এই চার বিশেষায়িত ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে ৮১টি । আর ৯ বিদেশি ব্যাংক চার বছরে খুলেছে ১১টি নতুন শাখা। উল্লেখ্য, সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপে সহায়তা করতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১২ সালে শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি শাখা খোলার অনুমোদন দেয়। এর আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শহর এলাকার পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিত এলাকার পশ্চাত্পদ জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে ব্যাংক শাখার সংখ্যা হবে ১ অনুপাত ১ অর্থ্যাত্ সমান সমান। গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাসসকে বলেন, ‘বঞ্চিতদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা ছিল আমার অন্যতম ভাবনা। এতে ব্যাংকিং খাতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এরই অংশ হিসেবে আমরা প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে গত চার বছরে ব্যাংকের সক্ষমতা অনুযায়ী রেকর্ড সংখ্যক শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছি।’ অধিকসংখ্যক শাখা খোলার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। গভর্নর বলেন, গত চার বছরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন সহায়ক অনেক উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে কৃষকের দুর্ভোগ কমাতে তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা, তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত এবং প্রান্তিক অঞ্চলে বিশেষ করে পাহাড়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উত্পাদনকে উত্সাহী করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা ইত্যাদি।