আয়কর প্রশ্নে ৪৩ প্রস্তাব এমসিসিআইয়ের

স্থানীয় শিল্পে কর বৈষম্য দূর করার তাগিদ দিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন মেট্রোপলিট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)। এ ছাড়া কর নিরূপনের ক্ষেত্রে দ্রুত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালুরও প্রস্তাব দেয়া হয়। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব দেন সংগঠনের সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পের জন্য মৌলিক কাঁচামাল ও মধ্যম পণ্যের উপর কর হ্রাস করা প্রয়োজন। এতে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন এ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। এমসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এনবিআরে আয়কর সংক্রান্ত ৪৩টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এছাড়া শুল্ক সংক্রান্ত ৬টি এবং ভ্যাট সংক্রান্ত ৪৩টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবে আমদানিকৃত মূলধনী যন্ত্রপাতির উপর বিদ্যমান শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ, মৌলিক কাঁচামালের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আড়াই শতাংশ, মধ্যবর্তী কাঁচামালের শুল্ক ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ এবং সম্পূর্ণ প্রস্তুত পণ্যের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। বস্ত্র, পাট ও হস্তশিল্পসহ ৭টি খাতের জন্য প্রণোদনা বা কর অব্যাহতি সুবিধা আরো তিন বছর বাড়িয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাইব্যুনালে আপিল জমা দেয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১০ শতাংশ পরিশোধের স্থলে ৫ শতাংশ পরিশোধ করা, ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা করা, সংগঠনকে করের আওতামুক্ত রাখা, কোম্পানির স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক জামানত বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে উেস কর কর্তনের বিধান বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিস উদ দৌলা অগ্রিম আয়কর কর্তনকে অযৌক্তিক বলে মত দেন। সম্পদ কর প্রত্যাহার ও সমন্বিত নিরীক্ষা পদ্ধতি জোরদার করার প্রস্তাব দেন বার্জার এর পরিচালক আব্দুল খালেক। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংক্রান্ত প্রস্তাবে বীমা, গ্যাস, বিদ্যুত্, টেলিফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদি সেবার উপর প্রদত্ত ভ্যাট শতভাগ উপকরণ কর হিসেবে রেয়াত গ্রহণের সুযোগ দেয়া, রেয়াত বাতিল সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না রাখার বিধান বাতিল করা, ইস্যুকৃত চালানপত্র (মূসক-১১) ৫ কার্যদিবসে ভ্যাট দপ্তরে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে মাসিক ভিত্তিতে করাসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দেয়া হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ করে বলবেন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে। এটা খুবই কঠিন।’ এছাড়া এনবিআরের পারফর্মেন্স মূল্যায়নে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই একমাত্র মাপকাঠি নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিন, সৈয়দ আমিনুল করীম, ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম সবিচ ও প্রধান বাজেট সমন্বয়কারী আল আমিন প্রামাণিক প্রমুখ।