পার্বত্যাঞ্চলে বাড়ছে বারি কলার আবাদ

কলা চাষাবাদের অবারিত সম্ভাবনাময় পার্বত্যাঞ্চলে টিস্যুকালচারের মাধ্যমে উত্পাদিত বারি কলা ৩ ও ৪ আবাদে চাষিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জেগেছে। পাহাড়ি এলাকার মাটি ও আবহাওয়া এ কলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন এখানে কলার আবাদ সম্প্রসারণে কাজ করছে। এক সময় পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক হারে কলার চাষা হত। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে চাষিরা কলার আবাদ প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন ২০১২ সাল থেকে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার ৮টি উপজেলায় টিস্যুকালচারে উত্পাদিত বারি কলা ৩ ও ৪ অর্থাত্ বাংলা ও চম্পা কলা আবাদ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও বারির জীব প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দিল আফরোজা খানম জানান, দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় টিস্যুকালচারের এ কলা চাষে পাহাড়ি এলাকার চাষিদের মাঝে বেশ সাড়া জেগেছে। খাগড়াছড়ির রামগড়, মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি ও সদর উপজেলা এবং রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, কাউখালি, রাজস্থলি ও সদর উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে এ কলার চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে। গত বছর এ ৮টি উপজেলায় ১৬ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করা হয়। এ বছর ৮ বিঘায় চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পভুক্ত প্রত্যেক চাষিকে এক বিঘা জমিতে রোপণের জন্য বারিতে উত্পাদিত টিস্যুকালচারের চারা, সার, কীটনাশক ওষুধ, ঘেরাবেড়া তৈরির খরচপাতিসহ সবধরনের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া চাষিদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কলা বাগানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। জীব প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোশাররফ হোসেন জানান, হলুদ গাছ আকৃতির চারা হওয়ায় টিস্যুকালচারের কলা চারাগুলো পরিবহন অত্যন্ত সহজ। চারাগুলো একই সাথে বেড়ে ওঠে এবং একই সময় ফল আসে বিধায় চাষিরা এ কলা চাষে বেশ উত্সাহী।