বাগমারায় বোরো ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ

রাজশাহীর বাগমারায় বোরো ক্ষেতে ব্যাপকহারে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। সেইসাথে ক্ষেতে অন্যান্য রোগ-বালাইয়ের উপদ্রবও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আবাদ রক্ষা করতে কৃষকেরা ক্ষেতে দফায় দফায় কীটনাশক প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কীটনাশকে ব্যাপক ভেজাল থাকায় তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে এ উপজেলায় এবার বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মওসুমে এ অঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পরও উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন কৃষক। তারপরও লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষক রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলতি মওসুমে আবারো বোরো চাষে মাঠে নামেন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় বোরো ক্ষেতের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তাছাড়া হঠাত্ করে ক্ষেতে ব্যাপকহারে মাজরা পোকা ও অন্যান্য রোগ-বালাইয়ের আক্রমণও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষক সেচ সংকট ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফসল রক্ষা করতে কৃষকেরা ক্ষেতে দফায় দফায় কীটনাশক প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কীটনাশকে ভেজাল থাকায় কোনো কাজ হচ্ছে না বলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে বাগমারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার মাহতাব হোসেন বলেন, বিনা খরচে পার্চিং পদ্ধতিতে সব ধরনের ফসলের ক্ষতিকারক পোকা দমন করা যায়। ফসলী জমিতে গাছের ডাল ও কঞ্চি পুঁতে দিয়ে পাখি বসার সুযোগ করে দিলে পাখিরা ওই জমির সমস্ত ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলবে। এতে একদিকে যেমন ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে ক্ষেতের ফসল রক্ষা পাবে অন্যদিকে কীটনাশক ক্রয়ের খরচ থেকেও কৃষকরা রক্ষা পাবেন।