ফ্যাশনের বাহার!

নিউইয়র্কে মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম বড় ফ্যাশন ইভেন্ট মেট গালা ২০১৯। প্রতি বছর মে মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় মেট গালা, যেখানে আগত অতিথিদেরও ফ্যাশনের থিমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পোশাক পরতে হয়। এবারের ফ্যাশন শোতে বিচিত্র সব পোশাক পরে হাজির হয়েছিলেন বিশ্বের নামিদামি তারকারা। এ বছর মেট গালার থিম ছিল ‘ক্যাম্প: নোটস অন ফ্যাশন’। মেট গালা এমন এক আসর যেখানে নিজেদের খ্যাতি, ফ্যাশন এবং ঝলক প্রদর্শনের সুযোগ পান তারকারা।

ফ্যাশন শোতে মার্কিন সংগীত শিল্পী কেটি পেরি পরেছিলেন ঝাড়বাড়ির পোশাক। যেখানে তার পোশাকের চারপাশে ছিল দুই দুইটি ঝাড়বাড়ি, একটি মাথার উপরে আর একটি কোমরে। যার প্রত্যেকটিতে ছিল একাধিক জ্বলন্ত মোমবাতি। এ যেন লোডশেডিংয়ের বিরুদ্ধে কেটি পেরির যুদ্ধ ঘোষণা! তার এই ঝাড়বাতি পোশাক তৈরির দায়িত্বে ছিলেন ফ্যাশন হাউজ মোসিনোর জেরেমি স্কট। কেটি পেরির ঝাড়বাতির পোশাকের কথা বলতে গিয়ে জেরেমি স্কট বলেন, এটি খুবই জটিল একটি কাজ ছিল। সম্ভবত আমার জীবনে করা ডিজাইনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জটিল কাজ। এটি করতে তিন হাজার ঘণ্টা সময় লেগেছে। অতিথিদের কেউ কেউ অবশ্য ভাবছিলেন এমন পোশাক পরে কেটি পেরি কীভাবে নৈশভোজে অংশ নেবেন। কিন্তু শেষ ধাপে এসে কেটি পেরি তার পোশাক বদলে নিজেকে একটি বার্গারের সাজে উপস্থাপন করে দর্শকদের সেই ভাবনাকেও বদলে দেন।

ফ্যাশন শোতে চমক দেখিয়েছেন কানাডিয়ান পপ তারকা সেলিন ডিয়নও। তিনি হাজির হয়েছিলেন স্প্যাগেটির (সেমাই জাতীয় লম্বা তন্তুর মতো খাবার) সাজে। তার পোশাক থেকে ঝুলছিল হাজারো স্প্যাগেটি। মাথায় যে মুকুট পরেছিলেন সেটিতেও ছিল স্প্যাগেটির থিমে তৈরি। রেড কার্পেটে হাঁটার সময় দর্শকদের থেকে অবশ্য তেমন সাড়া পাননি সেলিন ডিয়ন।

মার্কিন সংগীত শিল্পী, অভিনেতা এবং স্টেজ শিল্পী বিলি পোর্টার পরেছিলেন ২৪ ক্যারট গোল্ডের মুকুট। প্রাচীন মিশরীয়দের মতো করে সেজেছিলেন তিনি। একটি পালঙ্কে করে তাকে স্টেজে নিয়ে আসেন ছয় যুবক।

মার্কিন র্যাপ শিল্পী, গীতিকার, স্ট্রিপার এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব বেলসালিস মারলেনিস আলমানঝার কার্দি বি নামেই অধিক পরিচিত। মেট গালার এবারের আসরে কার্দি বি যে পোশাক পরে এসেছিলেন তা দেখে যে কারোর ভেতরেই একটু অস্বস্তি লাগাটা স্বাভাবিক। কারণ তার সেই বিশেষ পোশাকটি বহন করতেই দরকার পড়ে ৫ জন মানুষের! কারো সাহায্য ছাড়া এই পোশাক পরে কোথাও চলাফেরা করাটাও অসম্ভব। মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা মোটা তোষকের মতো মেরুন রঙের পোশাকটি পরে স্টেজে আসার পরই অতিথিরা হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান তাকে। কার্দি বির এই পোশাকের ডিজাইনার ব্রাউন ভোগ ম্যাগাজিনের কাছে বলেন, আমি পোশাকটি মূলত কার্দির কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করেছি। কারণ নারী শরীরের যে সৌন্দর্যের কথা আমরা কল্পনা করি সেটি কার্দি বির মধ্যে রয়েছে। এবং পোশাকের মাধ্যমে একাধারে পোশাক ও কার্দির সৌন্দর্য উভয়ই প্রকাশ পেয়েছে। পোশাকটি তৈরি করতে ৩৫ জন মানুষকে দুই হাজার ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয়েছে। পোশাকটি কার্দিরও বেশ পছন্দ হয়েছে।

জুজামসিন থিয়েটারের প্রেসিডেন্ট এবং মালিক জর্ডান রোথ এদিন মেট গালায় হালকা পাতলা গড়নের সাজের একটি গোল্ডেন মেরুন রঙের পোশাক পরে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে যখন তিনি তার হাত দুটি প্রসারিত করলেন জর্ডানের দুই হাত রূপ নিলো থিয়েটারে। যেন একটি জীবন্ত থিয়েটার হাজির হয়েছে রেড কার্পেটের উপর।

ব্রিটিশ মডেল, সংগীত শিল্পী এবং অভিনেত্রী সারা জোসেলিন ডেলেভিনঞ্জে এদিন রঙধনু থিমে এলজিবিটি ফ্লাগকে তুলে ধরেছিলেন। এলজিবিটি আসলে চার ধরনে সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশনের একটা সংক্ষেপিত রূপ। -বিবিসি