দিনাজপুরে পাল আমলের মন্দিরের সন্ধান

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলোয়া গ্রামে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খননে পাল আমলের একটি মন্দির পাওয়া গেছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খননে বেরিয়ে আসে এটি। গত ২৭ মার্চ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উপ-প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানের তত্ত্বাবধানে এবং সহযোগী অধ্যাপক স্বাধীন সেনের পরিচালনায় খনন কাজ শুরু হয়। প্রকল্প দলে রয়েছেন গবেষণা বিভাগের প্রভাষক সাবিকুন নাহার সিথি, আহমেদ শরীফ সানি ও একেএম সাইফুর রহমান পলিন। সহযোগিতায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ, সোহাগ, ঝুমুর, মুক্তা ও তুলি। খনন কাজে আনা হয়েছে বগুড়ার মহাস্থান গড় থেকে ১২ জনের একটি দক্ষ শ্রমিক দল। সে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঠাণ্ডু ও মোতালেব নামে দু’শ্রমিক। ঘোড়াঘাট উপজেলা ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ। জানা গেছে, সুপ্রাচীনকালে এখানে গড়ে ওঠে জনপদ। ঘোড়াঘাটের পাড়ুর ঢিবি খনন করে প্রাপ্ত তথ্যে অনুমান করা হচ্ছে মন্দিরটি পাল আমলের। তবে এটি বৌদ্ধ মন্দির নাকি হিন্দু মন্দির তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় লোকজন এই স্থাপনা থেকে ইট তুলে নিয়ে গিয়ে অবকাঠামোটির মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছে। আরো মাস খানেক খনন কাজ করার পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। গবেষণা কাজে নিয়োজিত সহযোগী অধ্যাপক স্বাধীন সেন জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলুয়া থেকে ইতিপূর্বে দুটি কপার প্লেট পাওয়া গেছে যা বর্তমানে ভারতের কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরীতে রয়েছে। তিনি জানান দিনাজপুর অঞ্চলে তিনটি প্রশাসনিক এলাকা ছিল। এগুলো হচ্ছে-কোটি বর্ষ, ফলকবিথি ও পঞ্চনগরী। এর মধ্যে ঘোড়াঘাট যে কোন একটির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।