জনতা ব্যাংককে খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ

খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য জনতা ব্যাংককে পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ পরামর্শ দেয়া হয়। মূলত জনতা ব্যাংকের ডিসেম্বর প্রান্তিকের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনার পর বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা ব্যাংকটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পরিচালন ব্যয়, মূলধন পর্যাপ্ততা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে তাদের মতামত দেন। ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জনতা ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আমিনুর রহমানসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠক সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য সূচকে উন্নতি করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৮৩৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা মোট প্রদত্ত ঋণের প্রায় ১৪ ভাগ। এর আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা বা মোট প্রদত্ত ঋণের প্রায় ৯ ভাগ। ডিসেম্বর প্রান্তিকে ১৮ কোটি ৪ লাখ টাকার ঋণ পুনঃতফসিলীকরণও করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। বর্তমানে ৯৭ লাখ টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। গত বছর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির কাছ থেকে ৭৬ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতের আদায় হয়েছে সাড়ে ৪৭ কোটি টাকা। অন্যান্য খেলাপি গ্রাহক থেকে ২১৯ কোটি টাকা আদায়ের কথা ছিল। আদায় হয়েছে ১৯৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ব্যাংকটির লোকসানী শাখা ৭৬ থেকে বেড়ে ৮২তে দাঁড়িয়েছে। এসব নেতিবাচক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে জনতা ব্যাংক কিছু কিছু বিষয়ে উন্নতিও করেছে, তাতে সন্তুষ্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আমিনুর রহমান বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও ব্যাংকের অন্যান্য সূচক অনেক ভাল পর্যায়ে রয়েছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা ও নতুন নিয়মের কারণেই মূলত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য আমরা একটি কার্যকরী পরিকল্পনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। সে অনুযায়ী কাজ করায় ঋণ আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আর্থিক শৃংখলা ফেরাতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। প্রতিবছর রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সমঝোতা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়। আর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো চলছে কিনা তা তাদারকির জন্য ওই চার ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতি প্রান্তিক (তিন মাস অন্তর) শেষে একত্রে বৈঠক হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বিশৃংখলা দেখা দেয়ায় এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথকভাবে বৈঠক করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত রবিবার সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।