মওদুদ, বুলু ও এ্যানির মুক্তিলাভ
এ সরকার বিরোধী দল বিহীন গণতন্ত্র চায়
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৮
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি, দলের যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু এমপি ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে গতকাল সোমবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কারা ফটকের সামনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সরকার বিরোধীদল বিহীন গণতন্ত্র চায়। তারা মিথ্যা মামলা জুলুম নির্যাতন ও হয়রানির মাধ্যমে বিরোধী দলকে ধ্বংস করে এক দলীয় নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের সকল রাজনৈতিক দল একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। এই ইস্যুতে দেশে প্রবল জনমত সৃষ্টি হয়েছে। সরকার যদি সেই জনমতকে উপেক্ষা করে তাহলে তাদের পতন হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কারাগারে আটক সকল বিএনপি নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, পুরো দেশকে কারাগার বানিয়ে কোন আন্দোলন রোধ করা যাবে না। এই সরকার সকল রাজনৈতিক সংস্কৃতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাংচুর, ককটেল মারার মতো মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে। তিনি সম্পূর্ণ ভূয়া, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানান।
কারাগার সূত্র জানায়, তিন নেতার জামিনের কাগজপত্র রবিবার রাতেই কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছে। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই জামিননামার কাগজপত্র যাচাই বাছাই শেষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারের হাই সিকিউরিটি (পার্ট -২) অংশ থেকে মুক্তি পান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও বরকত উল্লাহ বুলু। পরে বেলা ১২টার দিকে কারাগারের পার্ট-১ থেকে মুক্তি পান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। কারাগারের বাইরে এলে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় ঢাকা, গাজীপুর ও নোয়াখালী এলাকার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ছাড়াও নেতৃবৃন্দের আত্মীয়-স্বজন কারা ফটকের সামনে উপস্থিত ছিলেন। কারা ফটকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হুমায়ূন কবীর খান, মুজিবুর রহমান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশীদ মামুন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আরিফ হাওলাদার, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি নেতা মনিরুল ইসলাম মনি, হান্নান মিয়া হান্নু, স্থানীয় বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী সরকার, অ্যাডভোকেট আবুল বাশার প্রমুখ।
গত ২ ও ৬ মার্চ পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, হাতবোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে পল্টন থানায় চারটি, রমনায় দুইটি ও শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। বিএনপির শীর্ষ নেতারা গত ৭ এপ্রিল হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করেন কারাগারে পাঠান। পরে গত ৯ এপ্রিল তারা দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন করেন। রবিবার আদালত ওই তিন জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।