রাজধানীতে ছাত্রলীগ নেতা হত্যা
দুই দিনেও মামলা হয়নি গ্রেফতার হয়নি কেউ
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০২
ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ফজলুল হক পাটোয়ারী বাবু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। দুইদিন আগে মিরপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে বাবুকে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি কারণ গুরুত্বসহ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুরু থেকেই নিহতের স্বজনরা দাবি করেছে, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই বাবুকে খুন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রধান সন্দেহভাজন গোলাম মাহদী টিটু কাফরুল থানার সোর্স হওয়ায় পুলিশ তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
রাজধানীর কাফরুল থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, ঘটনার পর থেকেই খুনিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। নিহতের বাবা হেদায়েত উল্লাহ পাটোয়ারী জানান, একটি জমি নিয়ে বাবুর সঙ্গে একই এলাকার মজিদের ছেলে টিটুর বিরোধ ছিল। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সমঝোতা বৈঠকও হয়েছে। টিটু স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে ওই জমি বাবদ দুই লাখ টাকা নেয়ার পরও আবার চাঁদা দাবি করে। এসব ঘটনায় টিটুকে কাফরুল থানা পুলিশ আশ্রয় দিয়েছে। তাই খুনিরা শেষ পর্যন্ত বাবুকে খুন করার মতো সাহস পেয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, টিটুর বাবা মজিদ সপরিবারে সাভার চলে যায় জমি বিক্রি করে। এরপর থেকে টিটু সাভার থেকে পূর্ব-কাজিপাড়ায় আসা যাওয়া করেই মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করতো। গত ছয় মাসে কাফরুল থানায় বিভিন্ন অভিযোগে টিটুর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। এরপর টিটু আরো হিংস্র হয়ে ওঠে। এর জের ধরেই টিটু সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাবুকে হত্যা করেছে বলে অধিকাংশ এলাকাবাসী মনে করছেন।
ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, টিটুর সঙ্গে বিরোধ ছাড়াও সমবায় সমিতি নিয়ে কারো সঙ্গে বিরোধ, চাঁদাবাজি, শিবিরের হুমকি এবং ছাত্রলীগের কোন অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।