রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

হলে পার করা আনন্দের সময়

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠা, নাস্তা করা, ক্লাসে যাওয়া, ক্লাস শেষে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করে হয়তো একটু বিশ্রাম নেয়া নয়তো টিউশনি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা, গ্রুপে যাওয়া, প্রুপ স্টাডি করা অথবা বিকেল বেলায় ক্যাম্পাসে ঘুরে-ফিরে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানো। এভাবেই কাটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস জীবন। কেউ টিউশনির ব্যস্ততায় আবার কেউ রোমাঞ্চকর আড্ডায় অতিবাহিত করে পুরোটা বিকেল। অবসরে চায়ের দোকানে অথবা মতিহারের এই সবুজ ক্যাম্পাসের ইবলিশ চত্বরে দল বেঁধে আড্ডা দেয়াতো নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবন অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটু আলাদা। শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত অনেক কোলাহল থাকলেও বিকেলবেলা নেমে আসে নীরবতা। ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশ বসবাস করে শহরসহ বিভিন্ন স্থানে। আবাসিক হলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা একেবারেই কম। একদিকে পর্যাপ্ত আসনের অভাব অপরদিকে শহর থেকে একটু বেশি দূরত্ব হওয়ার কারণে হলগুলোর প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদেরও তেমন কোন আগ্রহ নেই। তাই হল ছেড়ে অনেকে শহরে বসবাস করে। বিভিন্ন স্থানে টিউশনি এবং পার্ট টাইম জব করছে। মনিরুজ্জামান টুটুল ও নাজেম। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। হল জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তারা বলেন, ‘হলে আমরা সুখ আর দুঃখকে সঙ্গী করে থাকছি। ক্যাম্পাসে একটানা ক্লাস শেষ করে দুপুরবেলা হলে ফিরলে মনটা যেন প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। তবে সন্ধ্যার পরপরই আমাদের মাঝে চলে আসে এক অবারিত সুখের ধারা। কারণ এ সময় আমরা সবাই গল্প আর আড্ডায় মেতে উঠি। আবার হঠাত্ ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে হলের ছাদে জম্পেশ আড্ডা, আর সুরতালহীন গানে মেতে উঠা। জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাইফুজ্জামান সুমন, তারেক জানায়, ‘এ ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়ে আমরা যে আনন্দ পেয়েছি তা যে সুখের অর্ধেক ছিল সেটা আমাদের মাঝে প্রমাণিত হয়েছে জিয়াউর হলে থাকার সুযোগ পেয়ে। কারণ আমরা হলের পরিবেশকে নিজের মতো করে পেয়েছি। সকাল সকাল আমরা হল ত্যাগ করে চলে যাই ক্লাসে। মন যেন বার বার ক্লাসের ফাঁকে চলে আসতে চায় হলে। কারণ সেখানে গেলেই দাবা, তাস, ক্যারামবোর্ড খেলাসহ নানা খেলায় মেতে উঠতে পারি সব সময়।’ হল জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, হলজীবনের সবচেয়ে মজাদার বিষয় হলো রুমমেটদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া। বিকেলবেলা অথবা রাতে খোলা মাঠে আড্ডা দেয়াটি আমি বেশি উপভোগ করি। প্রতিদিন হলমেটদের সাথে আড্ডা দিতেই হবে। এছাড়া আমার চলেই না।