বিমান অবশ্যই লাভজনক হবে :কেভিন স্টিল
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩২
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন কেভিন জন স্টীল। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসেরও বেশি সময় পর ইত্তেফাককে তিনি জানান, বিমানে কাজ করে আমার ভাল লাগছে। আমি জানি বিমানের কতটুকু উন্নতি করা সম্ভব। এদেশের কাজের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমার জানা আছে। কারণ বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে ৭ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার ও বিমানের পরিচালনা পর্যদ আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছি। কেভিন স্টীল রবিবার ইত্তেফাককে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন। তিনি গত মার্চের মাঝামাঝি দিকে বিমানে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও ইতিহাদে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। বিমানে প্রধান নির্বাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য তিনি সরকার ও বিমানের পরিচালনা পর্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টার ত্রুটি করবো না।
কেভিন স্টীল বলেন, বিমানে অনেক দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। তাদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও অর্জনের জন্য লক্ষ্য দরকার। এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেক বেশি পরিশ্রমী, বিশ্বস্ত ও সত্ বলে আমার বিশ্বাস। তবে কিছু লোক তাদের সুনাম নষ্ট করছে। তিনি মনে করেন বিমান বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইন্সগুলো থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তবে অনেক দূর অগ্রসর হওয়া ও বিমানকে লাভজনক করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিমানে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা উত্তরণের মাধ্যমে এটাকে অচিরেই একটি ভালো এয়ারলাইন্সে পরিণত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এমডি হিসেবে আমি একটু বেমানান, কারণ আমি কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে বেশি পারদর্শী, আমি বিমানের লাভ বৃদ্ধি, খরচ কমানো ও যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করবো। শুধু মার্কেটিং এবং মুনাফা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নয় বরং বিমানের সকল ক্ষেত্রে এ চেষ্টা থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি বিমানের কল সেন্টার চালুর মধ্য দিয়ে কাজ শুরু করেছি। এটা আগামী চার পাঁচ মাসের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য চালু থাকবে। আমার লক্ষ্য হলো বিমানকে উন্নত, লাভজনক, ক্রেতামুখী এয়ারলাইন করা, যাতে বাংলাদেশিরা এর জন্য গর্ব করতে পারে।
তিনি বলেন, বিমানের বিভিন্ন শাখার শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি মনে করি বিমানের ভবিষ্যত্ পরিবর্তনের এ সুযোগ তারাও গ্রহণ করবে। ক্ষতিকর হয় এমন কোনো পদক্ষেপ তারা নেবে না। তবে একইসঙ্গে তাদের কিছু অনুরোধও রাখার চেষ্টা করছি। যাতে তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় আসতে পারে। এটা বিমানের ভবিষ্যতের জন্য সুখকর হবে।
বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই কার্গো ভিলেজে অবস্থিত কুরিয়ার কমপ্লেক্সটি কুরিয়ার কোম্পানি পরিচালনা করে। এখানে আগুনের বিষয়টি বিমানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে যে চুরির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে আমি সে বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে লক্ষ্য রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, আমি বিমানের ক্যাপ্টেনদের পেশাদারিত্বের জন্য গর্বিত। আমরা আরো কিছু নিয়োগ দেব।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ রয়েছে বিমানের। কিন্তু আমরা বোয়িং ৭৭৭-এর মতো উড়োজাহাজ চাই। এ ধরনের নতুন প্রজন্মের জাহাজ আমাদের আছে। নতুন আরো কিছু বিমান বহরে যুক্ত করে আমরা যাত্রী পরিবহনের মাত্রা বাড়াতে চাই। এটা করতে পারলে বিমান লাভবান হবে।
বিমান লাভজনক হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে কেভিন স্টীল বলেন, এর জন্য অবশ্য যথাযথ একটি কাঠামোর দিকে আমি তাকিয়ে আছি। নতুন দক্ষ ক্যাপ্টেন নিয়োগ প্রশ্নে তিনি বলেন, এজন্য বিমান বোর্ড ও সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বর্তমান শ্রমিকদের আরো বেশি উত্পাদনশীল ও ক্রেতামুখী করতে হবে। পাশাপাশি বিমানের সংখ্যা, রুট, নতুন পণ্য ও সেবা বৃদ্ধি করতে চাই।