রাজশাহী যশোর বরিশাল খুলনায় ব্যাপক সংঘর্ষ

গতকাল মঙ্গলবার শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হলেও দেশের কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যশোরের বাঘারপাড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৭ জন আহত হয়েছে। আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন বাঘারপাড়া থানার ওসি রামপ্রাসাদ ভক্ত, এসআই মফিজ ও এএসআই হায়দার আলী। গুরুতর আহত হায়দারকে বিকালে পুলিশের নিজস্ব হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বরিশালে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে হরতাল সমর্থকরা মিছিল করেছে। বিএম কলেজের সামনে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে শিবির। এ সময় সেখানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের প্রধান গেট লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে ছাত্রদল। তবে ককটেল দুটি বিস্ফোরিত হয়নি। পিটিআই মোড়ে সকালে ছাত্রদল পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে। সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে হরতালের কারণে আটকা পড়েছে পণ্যবাহী কয়েকশ ট্রাক। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ঝটিকা মিছিল ও গাড়ি ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ৩৬ ঘণ্টার হরতাল পালিত হচ্ছে। আমাদের প্রতিনিধি, অফিস ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর। যশোর অফিস:গতকাল বেলা ১১টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার ভাটা আমতলা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। আহত অন্যরা হলেন উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি টিটো (৩৫), সেকেন্দারপুর গ্রামের শাহজাহান আলী (৩২), শাহজাহানের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (২৫) ও বেতালপাড়া গ্রামের বাবলু (৩৫)। এদের মধ্যে শাহজাহান, রাবেয়া ও বাবলু গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বাঘারপাড়া থানার এসআই তুহিন জানান, যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ভাটা আমতলা এলাকা অবরোধ করলে তারা ওই এলাকায় গিয়ে হরতাল সমর্থকদের সরিয়ে দেন। প্রথমে বিএনপি নেতাকর্মীরা সরে গেলেও পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শটগানের গুলিবর্ষণ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সকাল থেকে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ভাটা আমতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে হরতাল সমর্থকদের সরিয়ে দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা গ্রামের মধ্যে চলে গেলেও পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ইটের আঘাত ও মারধরে বাঘারপাড়া থানার ওসি রামপ্রসাদ ভক্ত, এসআই মফিজ ও এএসআই হায়দার আলী আহত হন। পরে পুলিশ প্রায় ১৫ রাউন্ড শটগানের গুলিবর্ষণ করে। পুলিশসহ আহত ৭ জনকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) রেশমা শারমীন জানিয়েছেন, এএসআই হায়দার আলীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিত্সার জন্য গতকাল বিকালে পুলিশের নিজস্ব হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি। তার মাথার হাড় ভেঙে গেছে। রাজশাহী অফিস:সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর সদর হাসপাতালের মোড় থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সাহেব বাজার মনিচত্বরের দিকে যাবার পথে রাজশাহী কলেজ হোস্টেলের সামনে আসলে পুলিশ মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটে অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শফিকুল আলমসহ ১২ জন আহত হয়। পরে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হেতেমখাঁ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করেও টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হেতেমখাঁ ও রাজারহাতাসহ আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে আরো অন্তত ১২ জন আহত হন। এদিকে সকালে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সফিকুল হক মিলনের নেতৃত্বে সাহেব বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। অন্যদিকে নগরীর সাগরপাড়ায় ছাত্রশিবির কর্মীরা তাদের ৬০ ঘণ্টা হরতালের সমর্থনে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে লাঠিমিছিল করেছে। নগরীর কাজলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল মিছিল বের করলে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া হরতালে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছে। বরিশাল অফিস: ভোর থেকে পিকেটিং করেছে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। ভোর সাড়ে ৫টায় বিএম কলেজের সামনে মসজিদ গেট সংলগ্ন রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে শিবির। এ সময় সেখানে ৩টি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়। একই সময় নগরীর সিএন্ডবি রোড, টিটিসি এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ। সকাল ৬টায় নগরীর নাজিরের পোল থেকে মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। জেলখানা মোড় অতিক্রমকালে মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মিছিলটি সদর রোডের দলীয় কার্যালয় চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে। সকাল ৭টায় বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব কামালের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও তা অতিক্রম করে মিছিলটি সদর রোড হয়ে বিডিএস ক্লাব মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। ভোরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নগরীর সিএন্ডবি রোড থানা কাউন্সিল এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে মহানগর ছাত্রশিবির। একই সময় বরিশাল-লাকুটিয়া-বাবুগঞ্জ সড়কের লাকুটিয়া মোবাইল টাওয়ার এলাকায়ও বিক্ষোভ করে তারা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। হরতালে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নগরীর অভ্যন্তরে কিছু রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করলেও ভারি কোন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। খুলনা অফিস: সকাল ১০টার দিকে মহানগর ছাত্রদল সরকারি সুন্দরবন কলেজের সামনে মিছিল বের করে। মিছিল থেকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তরের প্রধান গেটের সামনে ২টি ককটেল নিক্ষেপ করা হয় । তবে ককটেল দুটি বিস্ফোরিত হয়নি। এ সময় পিকেটাররা ৪টি ইজিবাইক ও একটি বেবি ট্যাক্সি ভাঙচুর করে। নগরীর জেলখানা ঘাট রোডে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে হরতাল সমর্থকরা। পিটিআই মোড়ে সকাল ১০টা দিকে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল ৬টার দিকে ছাত্রশিবির নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এ সময় দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ শিবিরের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে পিকেটাররা ২টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ২টি ইজিবাইক ভাঙচুর করে। এদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপির নেতৃত্বে নগরীর পুলিশ লাইন এলাকা থেকে মিছিল বের করা হয়। এছাড়া বিএনপি ও জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে মিছিল ও পিকেটিং করেছে। তবে সকাল থেকেই পুলিশ নগরীর কেডিঘোষ রোডস্থ মহানগর ও জেলা বিএনপির কার্যালয় অবরোধ করে রাখে। সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ):ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানীনগর এলাকায় গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় হরতাল সমর্থকরা রাস্তায় টায়ার ও খড়কুটো জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ সময় শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মতিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ:সকাল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কের উপর রাজারামপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ সড়কের শিবতলায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে হরতাল সমর্থকরা। হরতাল চলাকালে পিকেটাররা ১০/১২টি অটোরিকশা ভাংচুর করে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে শতশত পণ্যবাহী ট্রাক । সকালে বড়ইন্দারা মোড়ে জামায়াত অফিস থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য আমদানী হলেও হরতালের কারণে দেশের কোথাও পরিবহন করা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সকালে ৬৫০টি ভারতীয় ট্রাক পানামা ইয়ার্ডে ছিল। এর মধ্যে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২’শ ট্রাক পানামা ইয়ার্ড থেকে বের হয়েছে। কিন্তু হরতালের কারণে তা দেশের অভ্যন্তরে যেতে পারছে না। প্রায় ৬’শ ট্রাক পণ্য বন্দর এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধীন গোডাউনে পড়ে রয়েছে বলে বন্দর সূত্র জানায়। সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরায় মোটর সাইকেল ভাংচুর, ইট বিছিয়ে ও টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষিপ্ত পিকেটিংয়ের মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। ভোরে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ছয়ঘরিয়া মোড়ে গাছের গুড়ি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। এদিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বিনেরপোতা এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ও ইট বিছিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে শিবির কর্মীরা। এ সময় তারা একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিবিরকর্মীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শহরের অদূরে বাকাল মোড় ও রামচন্দ পুর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের ডাল ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ):ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় তারা বেবীট্যাক্সিসহ ৭-৮টি যানবাহন ভাংচুর করে। নীলফামারী:নীলফামারী-জলঢাকা সড়ক, নীলফামারী-নীলসাগর সড়ক, নীলফামারী-রামগঞ্জ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে পিকেটিং ও অবরোধ করে হরতাল সমর্থকরা। কমলনগর (লক্ষ্মীপুর):কমলনগর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বিভিন্ন জায়গা গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে জামায়াত শিবিরকর্মীরা। বিভিন্ন জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান গ্রহণ করে তারা। পরশুরাম (ফেনী):দুপুরে জেলা বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদল ও বাস্তুহারা দলের খণ্ড খণ্ড মিছিল হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। পিকেটাররা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩টি কাভার্ডভ্যান ভাংচুর করেছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে। হরতালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে পুলিশের পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ’র স্পেশাল বাহিনী ‘কোবরা’ মোতায়েন করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর:সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের বের করা একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পরে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা লক্ষ্মীপুর-রামগতি মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সকাল থেকেই শহরের উত্তর তেমুহনী, দক্ষিণ তেমুহনী, আলিয়া মাদ্রাসা, বাসটার্মিনাল, দালাল বাজার ও বিসিক শিল্পনগরী এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করে হরতালকারীরা। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ২ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বগুড়া:বিক্ষিপ্ত পিকেটিং, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক-মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা, সংবাদপত্রের গাড়ি ভাংচুর এবং বিভিন্ন এলাকায় খণ্ড খণ্ড মিছিলের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় পালিত হচ্ছে হরতাল। সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে হরতাল সমর্থকরা। শহরের ছিলিমপুর ও শহরতলীর বাঘোপাড়ায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে শিবির কর্মীরা। অন্যদিকে শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকায় মহাসড়কে পিকেটাররা একটি সংবাদপত্রবাহী গাড়ি ভাংচুর করেছে। এছাড়া সকালে যুবদল রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে এবং কয়েকটি রিকশা ভাংচুর করেছে যুবদল। এদিকে হরতাল বিরোধী মিছিল করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা। চাঁদপুর:সকালে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের কুমারডুগিতে পিকেটাররা গাড়ি ভাংচুর করে। এ সময় সড়কের খাজুরিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও গাছকেটে অবরোধ করার চেষ্টা করে তারা। পুলিশ ৪ পিকেটারকে আটক করেছে। কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):হরতাল সমর্থকরা শহরের সুমন ফার্মেসি ও হোটেল দত্ত সুইট ভাংচুর করেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কে শিবির টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে শিবির কর্মীদের ১০-১২টি সাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):হরতালের সর্মথনে সকাল থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নাসিরনগর-সরাইল-লাখাই সড়কে পিকেটিং ও মিছিল করে। সিলেট অফিস:সকালে জামায়াত-শিবির নগরীর হাউজিং এস্টেট ও মেডিক্যাল রোড এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে। সকালে শাহী ঈদগাহ এলাকায় টায়ার পুড়িয়ে পিকেটিং করে ছাত্রদল। এদিকে হরতাল চলাকলে পিকেটিং করার অপরাধে দুই ছাত্রদল কর্মীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মাহমুদ জাকারিয়া। ওই দুই নেতা হলেন পারভেজ আহমদ ও খালেদুজ্জামান রিপন। সিরাজগঞ্জ:পুলিশ জানায়, হরতাল শুরু আগেই ভোর ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনার তাঁতবাড়ি এলাকায় পিকেটাররা কুরিয়ার সার্ভিসের ২টি কাভার্ডভ্যানসহ ৫টি ট্রাক ভাংচুর করেছে। এছাড়া সোমবার রাত ১০টার দিকে শহরের মালসাপাড়া কবরস্থানের কাছে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হরতাল সমর্থকরা। গতকাল সকালে শহরের জাগাইমোড়ে পিকেটাররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ দেয়। এছাড়াও শহরের সমাজ কল্যাণমোড় ও গোশালা এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হরতালের সমর্থনে বিএনপি নেতা-কর্মীরা শহরে মিছিল বের করে। মিছিল থেকে নেতা-কর্মীরা কয়েকটি রিকশা ভাংচুর করে। রংপুর:মহানগরীর শুঁটকির মোড় এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ১ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে শিবির কর্মীরা। এছাড়া ৫টি আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে ব্যাড়িকেড দেয়ার চেষ্টা চালায় তারা। লালমনিরহাট:সদর উপজেলার হাঁড়িভাঙ্গা বাজারে সকালে পিকেটার ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পৃথক হামলায় এনজিও আরডিআরএস বাংলাদেশ-এর ২ চিকিত্সক আহত হয়েছে। তারা হলেন ডা. জাকিউল ইসলাম ফারুকী এবং মেডিক্যাল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম। লালমনিরহাট সদর থানার ওসি জমির উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে ডা. জাকিউল ইসলাম ফারুকী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন হরতাল পালিত:ফেনীর ছাগলনাইয়া, বাগেরহাট, বরগুনা উত্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, খুলনার বটিয়াঘাটা, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লার হোমনা, ঝিনাইদহের মহেশপুর, নওগাঁর ধামইরহাট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রংপুরের মিঠাপুকুর, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি, গাইবান্ধা, দিনাজপুর ও টঙ্গীতে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে।