চাকরি পেলেন সেই সাহসী নারী ঝর্না বেগম

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে চাকরি পেয়েছেন সেই সাহসী নারী ঝর্না বেগম। নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে এই ঝর্না বেগমই শিবিরের বর্বরতার শিকার এসআই জাহাঙ্গীর আলমকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন। তারই পুরস্কারস্বরূপ সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তাকে মাস্টাররোলে অফিস সহকারীর (পিয়ন) চাকরি দিলেন। গত সোমবার ঝর্না বেগম সিটি করপোরেশনের সাধারণ প্রশাসনিক শাখায় যোগ দিয়েছেন। চাকরিতে যোগ দিয়ে মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ঝর্না বেগম বলেন, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আহত পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি। শিগগিরই মেয়র তার অস্থায়ী চাকরিটি স্থায়ী করবেন এমন প্রত্যাশা করেন ঝর্ণা বেগম। জানা গেছে, ঝর্না বেগম রাজশাহী মহানগরীর আরডিএ মার্কেটের একটি বিউটি পার্লারে সামান্য বেতনে কাজ করতেন। তার ছেলে নীরব (১২) ও মেয়ে সানজিদাকে (৫) নিয়ে শালবাগান এলাকায় একটি ভাড়া কক্ষে চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। তার (ঝর্না) স্বামী শাহীন ঢাকার মিরপুরে একটি সিল্কের কারখানায় ব্লক মাস্টারের কাজ করেন। পাঁচ বছর ধরে ঝর্নার সঙ্গে শাহীনের যোগাযোগ নেই। বিভিন্ন মাধ্যমে ঝর্ণা বেগম শুনেছেন, সেখানে শাহীন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। পহেলা এপ্রিল নগরীর শালবাগান মোড়ে শিবির কর্মীদের ভয়াবহ বর্বরতার শিকার হন উপ-শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আর্মড পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলম। শিবির কর্মীরা জাহাঙ্গীর আলমকে লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে ইট ও হেলমেট দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেয় এবং সঙ্গে থাকা পিস্তলটি কেড়ে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও রাস্তায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকা জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করেন ঝর্না বেগম। পরম মমতায় গুরুতর আহত পুলিশ কর্মকর্তার রক্তাক্ত মাথা নিজের ওড়না দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ দৃশ্য বিভিন্ন বেসরকারি টিভিতে প্রচারিত হওয়ার পর দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তার সাহসী ভূমিকার জন্য পুলিশের আইজি, অ্যাটর্নি জেনারেল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ঝর্না বেগমকে সম্মাননা, স্মারকপত্র ও ফুলেল সংবর্ধনা দেন।