মোশাররফকে অপমান করা হলে সহ্য করবে না সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে অপমান করা হলে সহ্য করবে না সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর কয়েকজন সাবেক জেনারেল এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সাবেক জেনারেলরা বলেন, আইনজীবী কিংবা বিচার বিভাগ যদি মোশাররফকে অপমান করে তাহলে সেনাবাহিনীর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় মোশাররফের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান মির্জা আসলাম বেগ বলেছেন, মোশাররফের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রমের একটি নির্দিষ্ট সীমার পর সেনাবাহিনীর সহ্য করা ঠিক হবে না। আইনজীবীদের বর্তমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে উল্লেখ করে আসলাম বেগ বলেন, দেশের একটি অংশ উত্সাহ দেয়ার কারণে আইনজীবীরা মোশাররফকে অপমান করতে সাহস করছেন। সামরিক বিশ্লেষক লে. (অব) জেনারেল জামশেদ আয়াজ বলেন, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে নয়জন কমান্ডার আছেন যারা পারভেজ মোশাররফের শাসনামলে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে মোশাররফ এখন পর্যন্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন এবং তাকে রক্ষা করতে বর্তমান সেনাপ্রধানেরও ভূমিকা রাখা উচিত। না হলে মোশাররফের প্রতি সহানুভূতিশীলরা তাকে উদ্ধার করতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেকদের নিয়ে গঠিত সমিতির প্রধান এবং অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ফয়েজ আলী চিশতি বলেন, কিছু ভুলের কারণে হয়তো মোশাররফকে আদালতে যেতে হচ্ছে; কিন্তু তাকে একজন অপরাধী হিসেবে দেখা আইনজীবীদের উচিত হবে না। তবে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিয়ান মোহাম্মদ মেহমুদ বলেন, সাবেকদের মধ্যে মোশাররফের প্রতি কারো সহানুভূতি নেই। তিনি কর্মফল ভোগ করছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকী বলেন, মোশাররফকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেশে আসতে নিষেধ করা হলেও তিনি শোনেননি। তিনি নিজেই নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। তাই সেনাবাহিনী তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসবে না। সেনাবাহিনী এখন তাদের ভাবমূর্তি উদ্ধারে কাজ করছে। বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় গতকালই প্রথম আদালতে হাজির করা হয় মোশাররফকে। আদালতে মোশাররফের পক্ষে-বিপক্ষে শ্লোগান দেয়া হয়। বেনজির হত্যা মামলার তদন্তে তাকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়ে ৩ মে পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করে আদালত। মোশাররফের সঙ্গে তার একজন আইনজীবীকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে বিচারকদের গৃহবন্দি রাখার একটি মামলায় মোশাররফ এখন গৃহবন্দি আছেন।