খোঁজখবর
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৪৮
নতুন অ্যালবাম করছেন
আশির দশক থেকে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের গানের ভুবনে পথচলা শুরু হয়। ক্যারিয়ারের এ দীর্ঘ সময়ে তিনি ২৭টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। এবার তিনি ২৮তম একক নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি তার নতুন এককের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এ অ্যালবামের সবগুলো গানের সুর-সংগীত করছেন প্রিন্স মাহমুদ। প্রায় নয় বছর আগে প্রিন্স মাহমুদের সুর-সংগীতে কুমার বিশ্বজিতের একক অ্যালবাম ‘একমুঠো জোছনা’ প্রকাশিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বিরতির পর আবার একসঙ্গে কাজ করছেন তারা। এ প্রসঙ্গে কুমার বিশ্বজিত্ বলেন, ‘অনেক দিন আগে প্রিন্স মাহমুদের সুর-সংগীতে একটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলাম। সেই অ্যালবামের গানগুলো শ্রোতামহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। সে সময়েই প্রিন্স মাহমুদের সঙ্গে আরও একটি অ্যালবামে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই। ইতোমধ্যেই আমরা নতুন অ্যালবামের গানগুলোর রেকর্ডিং শুরু করে দিয়েছি। চলতি বছরের শেষ দিকে অ্যালবামটি প্রকাশ করব।’ কুমার বিশ্বজিতের ২৮তম একক অ্যালবামটি জি-সিরিজের ব্যানারে বাজারে আসবে। ১০টি রোমান্টিক ধাঁচের গান দিয়ে অ্যালবামটি সাজানো হচ্ছে।
আইটেম গানে
জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী হিসেবে আজকের অবস্থান অর্জনে বেবী নাজনীন অতিবাহিত করেছেন তার সংগীত জীবনের প্রায় ৪০ বছর। সাধনার শুরু থেকে সংগীতের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার নিয়ে ছুটে চলা সময়ে বেবী নাজনীন পেয়েছেন ‘উত্তর বঙ্গের দোয়েল’, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’, ‘কৃষ্ণ হীরক’, ‘কৃষ্ণ কলি’ খ্যাতি। বর্তমানে পরিচালক কালাম কায়সারের পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসতে মন লাগে’-তে আইটেম গানে কণ্ঠ দেন গুণী এই শিল্পী গত ৮ এপ্রিল চলচ্চিত্রটির শুটিংয়ের কাজ শুরু হওয়া কথা রয়েছে। ফিরোজ প্লাবনের কথা এবং সুরে স্টুডিও বাজনাতে গানটির কণ্ঠধারণ করা হয়। চলচ্চিত্রের সংগীতায়োজনে রয়েছেন ফিরোজ প্লাবন ও ডালিম। আর চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নবাগত হূদয় চৌধুরী।
রবীন্দ্র চরিত্রে
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গল্প ‘এক রাত্রি’র গল্পের নায়িকা সুরবালার কথা সবাই জানেন। গল্পের নায়কের সঙ্গে তার এক রাতের অনুভূতিপ্রবণ প্রেমগাথা পাঠক হূদয়ে অন্তর্দ্বানি্দ্বক ক্ষত সৃষ্টি করে। কবিগুরুর নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম সেই সুরবালার ভূমিকায় অভিনয় করলেন কাজী নওশাবা আহমেদ। নাটকটি পরিচালনা করেছেন অসীম গোমেজ। এতে অন্য চরিত্রে অভিনয় করছেন আহমেদ রুবেল এবং শতাব্দী ওয়াদুদ।
নাটক প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জে নাটকটির শুটিং হয়েছে। আমি প্রতিদিন ঢাকা থেকে গিয়ে নাটকটির শুটিং করেছি। পরিচালক নিখুঁতভাবে পুরো নাটকের দৃশ্য ধারণ করেছেন। অন্যদিকে, শতাব্দী এবং আহমেদ রুবেল দুজনেই দারুণ অভিনয় করেছেন। এ গল্পে সুরবালার তিনটি সময়কে দেখানো হয়েছে। আমি আমার সাধ্যমতো চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। নাটকটি রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে প্রচার হবে। আশা করি, নাটকটি দেখে সবাই মুগ্ধ হবেন।’
এবার গীতিকার
‘দেখেনি সে যুদ্ধ কোনো/আগুন বারুদ আর রক্তধারা/ তবু বুকের ভেতর কে লিখে দেয়/ তুমি যুদ্ধে আছো জেনো/’ আফসানা মিমি পরিচালিত ‘রান’ ছবিতে গান লিখেছেন নাট্যাভিনেতা আজাদ আবুল কালাম। এটিতে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন অর্ণব। আজাদ আবুল কালামের ভাষ্যমতে, হঠাত্ই গানটি লেখা। তিনি বললেন, ‘ছোটবেলা থেকে লেখালেখির চর্চা ছিল। তখন কবিতা লিখতাম বেশি। আমার কিন্তু গল্পের একটা বই আছে। এটির নাম ‘মুঠোভর্তি জিন তত্ত্ব’। ব্যস্ততার কারণে লেখালেখিতে সময় দেওয়া হয়নি। গানটি হঠাত্ করেই লেখা হয়। চলচ্চিত্রে এটাই প্রথম লেখা গান।’এর আগে ‘সার্কাস সার্কাস’, ‘ম্যান ফর অল সিজন’সহ বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটকে গান লিখেছেন আজাদ আবুল কালাম। এর আগে ‘নিকাব্বরের বায়োস্কোপ’ ধারাবাহিকের সূচনা সংগীত লিখেছিলেন তিনি।
মিউজিয়াম গড়ছেন মমতাজ
গ্রামবাংলার একজন সাধারণ শিল্পী হিসেবে মমতাজের পথচলা শুরু হয়। দারিদ্র্র্য ও অভাবের মধ্য দিয়ে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে। তবে সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এখন তিনি একজন সংসদ সদস্যও। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তার গ্রামের মানুষের নিয়মিত সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন। অথচ শৈশবে অন্যের সহযোগিতা না পেলে, তার বাবা মধু বয়াতির অনাহারেই দিন কাটত। ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে গ্রামের বাড়ি সিঙ্গাইরে একটি মিউজিয়াম গড়ছেন ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজ। ‘মমতাজ মিউজিয়াম’টি ১৫০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে। তার গানের অডিও সিডি, ব্যবহূত বাদ্যযন্ত্র, শৈশবের স্মৃতিমাখা আসবাবপত্র, বাবা মধু বয়াতির ব্যবহূত পোশাক, তার গানের স্বরলিপিসহ অনেক কিছু মিউজিয়ামে স্থান পাবে। এ প্রসঙ্গে মমতাজ বলেন, ‘এ পর্যন্ত অসংখ্য গান গেয়েছি। গানগুলো যেন আমার মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে, তাই নিজেই এগুলো এখন সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছি।’