সীমান্তে সিরীয় বিদ্রোহীদের সাথে হিযবুল্লাহর তীব্র সংঘর্ষ
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৭
সিরিয়া-লেবানন সীমান্তে বিদ্রোহীদের সঙ্গে হিজবু্ল্লাহর সংঘর্ষ আরো তীব্রতর হওয়ায় সিরিয়া যুদ্ধে লেবাননের জড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে ইসরাইল। এদিকে সিরিয়া সংকট নিয়ে কাতারের আমীরের সাথে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
সিরিয়ার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের প্রভাবে সিরিয়া-লেবানন সীমান্তেও সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা শিয়াদের সংগঠন হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লেবাননের পূর্বা-ঞ্চলীয় হারমেল এলাকায় গুলিবর্ষণ করছে। গত মঙ্গলবারও সেখানে মর্টার শেলের আঘাতে একটি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমান্ত গ্রাম কিউসায়রে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে ও বিপক্ষের যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত তীব্রতর হওয়ায় এই যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ লেবাননেরও জড়িয়ে পড়ার শংকা আরো বেড়ে গেছে।
এদিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর কয়েকবার রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন এক ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তা। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ গোয়েন্দা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আইতাই ব্রান জেরুজালেমে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, সামরিক গোয়েন্দাদের ধারণা, কয়েকটি হামলার ঘটনায় নার্ভ এজেন্ট বা নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করেছে সিরীয় বাহিনী। ব্রান বলেন, ‘পেশাগত দক্ষতা থেকে আমরা যতটুকু বুঝি তাতে এটা বলা যায় যে, সিরিয়া সরকার অতীতে বহু হামলায় প্রাণঘাতী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে।’
সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করবে না বলে ইতিপূর্বেই সতর্ক করেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ব্রানের দাবির সত্যাসত্য এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি ইসরাই-লের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সিরিয়ায় অস্ত্র হামলা নিয়ে সরকার এবং বিদ্রোহীপক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে সিরিয়ায় প্রবেশের চেষ্টায় আছে জাতিসংঘ তদন্ত দল।
এদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়া সংকট নিয়ে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে কাতারের আমীর শেখ হামিদ বিন খলিফা আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সিরিয়ার অচলাবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি এ বৈঠক করলেন। ওবামা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ সংকট নিরসনে আমরা কাতার ও অপর দেশগুলোকে সহযোগিতা করছি। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ালেই সিরিয়ার রক্তক্ষয়ী সংকট দূর হয়ে যাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সিরিয়ার বিরোধী দলকে শক্তিশালী করতে চাই, যাতে ওই দল সিরিয়ায় সকলের প্রতিনিধিত্বমূলক একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে।’