সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংঘর্ষে ৬০ জন আহত

সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত মঙ্গলবার পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষকালে বেশকিছু বাড়ি ভাংচুর হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অগ্নিসংযোগ করা হয় অন্তত ৪০টি বাড়িতে। ঐ সময় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জ শহরের মতিলাল মাঠে প্রশাসনের অনুমতিবিহীন পরিচালিত বৈশাখী মেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ করে গত মঙ্গলবার থানার পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গাবাড়ী ও দিয়ারধানগড়া মহল্লার যুবকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শতাধিক টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেলায় যাত্রার টিকিট ক্রয়কে কেন্দ করে মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙ্গাবাড়ী মহল্লার যুবকরা দিয়ারধানগড়া মহল্লার রাফাতকে মারপিট করে। এরই জের ধরে দিয়ারধানগড়া মহল্লার যুবকরা বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভাঙ্গাবাড়ী মহল্লার নাহিদকে মারধর করে। এ খবরে উভয় গ্রুপের যুবকরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ একপর্যায়ে শহরের মিলনমোড়, নয়ন মোড়, কুটুমবাড়ি ও দরগা রোড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান জানান, যে মেলাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ প্রশাসন থেকে ওই মেলা করার জন্য কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীনগর ও সদর উপজেলার হোসেন ডাইং গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও ৪০টি বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে আজাহার (২৩) নামে হোসেন ডাইং এলাকার একজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আলীনগর গ্রামের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে হোসেন ডাইং গ্রামে হামলা চালায়। এসময় হোসেন ডাইং গ্রামের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। দুই ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এসময় উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে রহুল বাঁধ সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে আলীনগর গ্রামের লোকজন হোসেন ডাইং গ্রামের অন্তত ৪০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পিকনিক স্পট বাবুডাইং-এ অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ নিয়ে আলীনগর ও হোসেন ডাইং গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষের ২ জন নিহত হয়।