মংলায় হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘মুভিং সাইলো’

মংলায় সুন্দরবন সংলগ্ন জয়মনিতে নির্মিত হচ্ছে ৫০ হাজার মেঃ টন ধারণ ক্ষমতার অত্যাধুনিক মুভিং সাইলো। প্রায় সাড়ে ৯শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পশুর নদীর তীরে এ সাইলোটি নির্মাণের মধ্য দিয়ে মংলা বন্দরের গুরুত্ব আরো বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৭টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর নির্মাণ কাজ করলেও মূল সাইলো ও জেটি নির্মাণের কাজ করছে যৌথভাবে বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড কোং লিঃ ও ভিয়েতনামের এশিয়া শ্লিফর্ম কর্পোরেশন। শুধুমাত্র মূল সাইলো আর জেটি নির্মাণ কাজের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪৪০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য দেশি-বিদেশি জাহাজ আগমন ও নির্গমনকে কেন্দ্র করে সমুদ্র বন্দর মংলায় ৫০ হাজার মেঃ টন ধারণ ক্ষমতার অত্যাধুনিক মুভিং সাইলোটি নির্মাণ হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাইলোর প্রশাসনিক ভবনসহ গাইডওয়াল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। মূল সাইলোর মবিলাইজেশনও প্রায় সমাপ্তির পথে। চলতি মাসের মধ্যেই মূল সাইলোর কাজ শুরু হবে। পশুর নদীর নোনা পানিতে সাইলোর নির্মাণ কাজের গুণগত মান সঠিক থাকবে না। তাই তমা কনস্ট্রাকশন স্ব-উদ্যোগে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নোনা পানি পানযোগ্য করার জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (পানি শোধনাগার) স্থাপন করেছে। এ প্লান্টের মাধ্যমে প্রতি ঘন্টায় ৫ হাজার লিটার পানি পানযোগ্য করে সরবরাহ করা যাবে। তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প ম্যানেজার আশরাফুল আলম শিমুল জানিয়েছেন, সাইলোটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে গোটা মংলা অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। তিনি জানান, এ সাইলোর সাথে রয়েছে উন্নত সড়ক মংলা নদীর ব্রিজসহ ছোট বড় অনেকগুলো ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প। মংলা বন্দর আধুনিকায়নে ইতিমধ্যে সড়ক ও ৩টি ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছে। একই সাথে সাইলোতে বিদ্যুত্ সরবরাহ দেয়ার জন্য ২৩০ মেগাওয়াট সাব-স্টেশনসহ বিদ্যুত্ লাইনের কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় অত্যাধুনিক এ সাইলোর নির্মাণ কাজ শুরু করে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর। ২০১৪ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানান প্রকল্প ম্যানেজার আশ্রাফুল ইসলাম শিমুল। তবে মূল সাইলোর ডিজাইন অনুমোদনে দেরি হওয়ায় তাদের কাজে কিছুটা বিঘ্ন হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রায় ৪ কোটি টাকার ইক্যুপমেন্ট এ প্রকল্পের জন্য আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭০ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন টাওয়ার ক্রেনসহ বিভিন্ন ইক্যুপমেন্ট। এ প্রকল্পের কাজে একাধিক চীনা এক্সপার্ট কাজ করছেন। মূল সাইলো ভবন নির্মাণ কাজে কমপক্ষে ৩০ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞ কাজ করবেন। এসব বিশেষজ্ঞ এখানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণও দেবেন। নির্ভরযোগ্য অপর সূত্র জানায়, মংলা বন্দরের উন্নয়ন ও দ্রুত পণ্য খালাস-বোঝাই, পরিবহন ও সরবরাহের জন্য সাইলো সংলগ্ন মংলা বন্দরের জন্য নতুন জেটি নির্মাণ করার চিন্তা ভাবনা চলছে। প্রস্তাবিত এ জেটি নির্মিত হলে বন্দরের পণ্য অতি দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো সম্ভব হবে। একই সাথে এ পণ্যট্রাক ও লরিতে বোঝাই করে দেশ-বিদেশে পাঠানোর জন্য উন্নত মানের ফোর-লেন সড়ক নির্মাণ করাও প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে মংলা নদীতে ব্রিজ নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মংলা থেকে সাইলোতে সরাসরি যাতায়াতের জন্য কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। এ সাইলোর পাশে নেদারল্যান্ডের আর্থিক সহায়তায় অনুরূপ ধারণ ক্ষমতার আরো একটি স্টিল সাইলো নির্মাণ হচ্ছে। মংলা থেকে জয়মনির ঘোল পর্যন্ত বিদ্যুত্ লাইন বসানোর জন্য বৈদ্যুতিক খুঁটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট চিলা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম জানান, সাইলো নির্মাণ শেষ হলে এখানে দেশি-বিদেশি প্রায় সহস্রাধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে।