জীবন নিয়ে খেলা
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪১
ভবন ধস ও অগ্নিকাণ্ডে গত ২৩ বছরে মারা গেছেন সাতশতাধিক মানুষ। এদের মধ্যে অধিকাংশই দরিদ্র পোশাক কারখানার শ্রমিক। আহত হয়েছেন চার সহস্রাধিক। এদের মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্বও বরণ করে চরম মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে হয় ভবন মালিক অথবা কারখানার মালিকের অবহেলা। আর এর বলি হয়েছেন দরিদ্র পোশাক শ্রমিকরা। প্রত্যেকটি ঘটনায় গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দায়ীদের হতে হয়নি বিচারের মুখোমুখি। বরং অনেক ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিরা নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, এ সময় ভবন ধসে আড়াই শতাধিক ব্যক্তির প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই সহস্রাধিক ব্যক্তি। এদের মধ্যে ১৯৯৭ সালে রাজধানীর কলাবাগানে ৭ জন, ২০০২ সালে শাহজাহাদপুর এলাকায় ৪ জন, ২০০৪ সালে পুরোনো ঢাকার শাঁখারীবাজারে ১৭ জন, ২০০৫ সালে সাভারের বাইপাইল স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধসে ৬৪ জন, তেজগাঁয়ে ফিনিক্স ভবনে ২৭ জন, ২০১০ সালে তেজগাঁয়ের বেগুনবাড়ি বস্তিতে ভবন ধসে ২৫ জন মারা যান। ২০১১ সালে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে ১ জন। সর্বশেষ গতকাল বুধবার ভবন ধসে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশে ভবন ধসে মৃত্যুর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় গঠিত তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু কোন তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ইমারত, স্থাপনা চিহ্নিতকরণে টাস্কফোর্স গঠনের পরও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ বন্ধ হয়নি। ২০১০ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন মতে রাজধানীতেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। তবে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে এ সংখ্যা ৭২ হাজার।
ইমারত বিশেজ্ঞদের মতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ৬ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
পোশাক কারখানায় আগুনে নিহত : গত ২৩ বছরে পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা গেছেন প্রায় সাড়ে পাঁচশ শ্রমিক। আহত দুই সহস্রাধিক। দেশে প্রথম পোশাক কারখানায় আগুন লাগে ১৯৯০ সালে রাজধানীর মিরপুরে সারাকা গার্মেন্টসে। মারা যান ৩২ জন শ্রমিক। ১৯৯৭ সালে ঢাকায় সাংহাই অ্যাপারেল নামে একটি পোশাক কারখানায় পুড়ে মারা যান ২৪ জন শ্রমিক। ২০০০ সালে বনানীর নিটিং কারখানায় আগুন লেগে মারা যান আরও ১২ জন শ্রমিক। ২০০৪ সালে ৪টি ঘটনায় আগুনে পুড়ে ও পদদলিত হয়ে মারা যান ৭৩ জন শ্রমিক। ২০০৬ সালে কেটিএস পোশাক কারখানায় আগুনে মারা যান ২৩ জন শ্রমিক। ২০১২ সালে আশুলিয়ায় তোবা গ্রুপের তাজরিন পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান ১২৪ জন শ্রমিক। ২০১০ সালে আশুলিয়ায় হামীম গ্রুপের পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান ২৯ জন শ্রমিক। এছাড়াও পোশাক কারখানায় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মারা যান ২২২ জন শ্রমিক। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল লেবার কমিটির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক মারা গেছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। আর আহত ১ হাজার ৯৫৬ জন।