অধিকাংশ লঞ্চেরই ফিটনেস নেই
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৪
প্রতিবছরের ন্যায় এবারো মহা ধুমধামে পালিত হচ্ছে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের পূর্বে এপ্রিল মাসে এ সপ্তাহ পালিত হলেও নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নৌ-পথ সুরক্ষায় পরবর্তীতে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। নৌযান মালিক-শ্রমিককে নিয়ম কানুন অবহিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতন করতে সপ্তাহটি পালন করা হয়। এ বছর ‘প্রশিক্ষিত নৌ-জনসম্পদ, পরিবেশবান্ধব যান নিরাপদ নৌ-চলাচল উন্নয়নের সোপান’ শ্লোগান নিয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি গতকাল শুরু হয়। রাজধানী ঢাকায়ও ব্যাপকভাবে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। বরিশাল নৌ-বন্দর জুড়েও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বাস্তবে এ সপ্তাহ উপলক্ষে পালিত কর্মসূচি পরবর্তীতে তেমন কোন উপকারে আসে না বলেই যাত্রীরা অভিযোগ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কোন প্রকার মনিটরিং ছাড়াই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বেপরোয়াভাবে নৌযান চলাচল করছে। অধিকাংশ লঞ্চেরই ফিটনেস নেই। মেঘনার ডেঞ্জার জোন থেকে শুরু করে ঢাকা-বরিশাল রুটে নৌযান চলাচল করছে ইচ্ছে মাফিক। প্রায় প্রতিবছর বর্ষা ও ঈদ-কোরবানীর মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দুর্ঘটনার পর পর বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নানা তত্পরতা শুরু করে। পরবর্তীতে সবকিছু থমকে যায়। ১৫ মার্চের পর মেঘনার ডেঞ্জার জোনে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও লঞ্চ মালিকরা তার তোয়াক্কা করছেন না। দৌলতখান-আলেকজেন্ডার, মনপুরা-হাতিয়া, বেতুয়া-তজুমদ্দিন-ইলিশা- মজু চৌধুরীর হাট, মীর্জাকালু ও হাকিমউদ্দিনসহ বিভিন্ন রুটে অবৈধভাবে চলছে একতলা লঞ্চ। এসব রুটে এ মৌসুমে বিআইডব্লিউটিসি’র সি-ট্রাক চলাচলের কথা থাকলেও তা কৌশলে বিকল দেখিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে একতলা লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার।
টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী বড় নৌযান হিসেবে পরিচিত কেয়ারি সিন্দাবাদ, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া জাহাজগুলো দক্ষিণাঞ্চলের ডেঞ্জার জোনে ইতিপূর্বে পরিচালনা করা হতো। গত কয়েক বছর ধরে এসব নৌযান আর দক্ষিণাঞ্চলের নৌ পথে দেখা যাচ্ছে না। চলছে ছোট ছোট একতলা লঞ্চ। বিআইডব্লিউটিসি এসব রুটে পর্যাপ্ত সি-ট্রাক সচল থাকার দাবি করলেও বাস্তবে ইজারাদার তা বিকল দেখিয়ে ছোট নৌযান পরিচালনা করে আসছে। মানুষ বাধ্য হয়ে অবৈধ নৌযানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। শুধু মেঘনার ডেঞ্জার জোন নয়, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ঢাকা-বরিশাল রুটে রোটেশন পদ্ধতিতে চলাচল করছে প্রভাবশালী মালিকদের লঞ্চ।
ঢাকা ও বরিশাল উভয় প্রান্ত থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র রুট পারমিট অনুযায়ী প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ টি করে লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও যাত্রীদের জিম্মি করে উভয় প্রান্ত থেকে ৩ থেকে ৪ টি করে লঞ্চ পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এর পাশাপাশি দক্ষ মাস্টার, সুকানি ও ড্রাইভার ছাড়াই এ অঞ্চলের নৌপথে দীর্ঘদিন লঞ্চ চলাচল করছে। বর্ষা এলে বেড়ে যায় দুর্ঘটনার আশংকা। তবুও দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে নৌযানে যাতায়াত করতে হয়। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলোর মত এম এল টাইপের একতলা লঞ্চগুলো চলাচল করছে এ অঞ্চলে বড় বড় নদীতে। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী শতাধিক লঞ্চের মধ্যে প্রায় অর্ধেক লঞ্চেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাস্টার ড্রাইভার নেই। ফিটনেস নেয়ার সময় অভিজ্ঞ চালক ও মাস্টারদের সনদ দেখিয়ে রুট পারমিট নেয়া হয়। পরবর্তীতে খালাসী ও হেলপাররা লঞ্চ পরিচালনা করায় ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা।