সুখের অনুপান
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:২০
বাড়িটা করে দিলাম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঢাকায় এসে কাবেজ আলি বউকে বলে—দেখো, হালাল পয়সার জিনিস। কাজেই ঝম ঝম টাকার সখের বাড়ি নয় এটা। আমি তো একটা ছোট কাজ করি রোশনী। বড় কাজ করলে বড় বাড়ি হয়। তবে তোকে আর ভাড়ার বাড়িতে থাকতে হবে না। নিজের বাড়িতে থাকবি। ও বউকে তুই বলে। রেগে গেলে তুমি। রোশনী বাড়ি দেখে। দুটো ঘর। একটা বারান্দা আর একটা বাথারুম। এই ওর বাড়ি। রান্নাঘরে টিনের চাল। এর পরেরবার এসে সেটা পাকা করবে—এই ওর ইচ্ছা। বলে—ছয় মাস পর এসে রান্নাঘরের চাল পাকা করব। একটা কথা বলি তোকে, রোশনী। চিঠিতে এত দুঃখের কথা লিখিস কেন তুই? বিদেশে থাকি। একটা ভালো চিঠির জন্য প্রাণটা চাতক পাখির মতো হয়ে থাকে। আর তুই কী লিখিস?—আমার কদিন হলো দাঁত কন কন করছে। কবার বমি করলাম সেদিন। হাজেরা খালার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। না হলে জিনিসপত্রের যে দাম—সব আগুন! রোদে পুড়ে পুড়ে আমার মুখটা কালো হয়ে গেছে। টিনের বাড়ির রোদ। জীবনটা ঝাঁঝরা। না হলে আজ বেগুনভর্তায় ঝাল হয়েছে বেশি। পৃথিবীতে এত চাঁদ-জোছনা-রোদবৃষ্টি আর তোর কেবল এইসব?
কী লিখব তাহলে?
ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছিস। একটা সুন্দর করে, একটু নরম করে, ভালোবাসার পাউডার মাখিয়ে, আতর লাগিয়ে, চিঠি লিখতে পারিস না? নামটা তোর ছিল রওশন। আমি করেছি রোশনী। মধ্যপ্রাচ্যে ছোট কাজ করি আর যা-ই করি, মনের ভেতর একটু সুন্দর সুন্দর ভাবনা আছে। দু-একটা বই পড়ি। কবিতাও পড়ি। শালা তোর চিঠি পড়লে মনে হয়, বাজারের ফর্দিও এর চেয়ে ভালো।
তুমি বিএ ফেল। আর আমি টেন কেবল।
ক্যান, রহিমের বউ কেমন সব চিঠি লেখে, দেখলেই মনটা খুশি হয়। ওর বউ নাইন পাস। ও সকলকে পড়ে শোনায়। তোরটা শোনাতে পারি না। তোর দাঁত কন কন আর পায়ের বাতের কথা কে শুনবে? চিঠির কথা শুনে মনে হয়, তোর বয়স আশি বছর। ওখানে আমরা খুব খাটি। সেখানে একটা সুন্দর চিঠির দাম থাকে। মোবাইল-ফোবাইল আছে, জানি। কিন্তু চিঠির মতো কী কিছু হয়। শালা জীবনে কোনোদিন প্রেম করলাম না। কাউকে প্রেমের চিঠিও লেখা হলো না।
রোশনী দাঁড়িয়ে আছে ওদের নতুন বানানো বাড়ির বাথরুমের সামনে। একটা বাথটব বানিয়েছে। আর একটা ট্যাপ সেই টবের ওপর। গোটা কয় প্লাস্টিকের বালতি। বলে—বালতিতে পানি ভরে গোসল করবি। বোঝা যায় বাথরুমটা রোশনীর পছন্দ হয়নি। বলে কেবল—টব কেন? টবে পানি ভরে গোসল করবার মত পানি থাকে সবসময়?
থাকে না, করবি না। প্রিন্স আবদুল হাকিমের বাথরুম দেখেছি। বাথটাবের কারুকাজ দেখে মনে হয়েছিল, আমার বাড়িতেও অমন একটা টব করব। যাকে বলে বাথটাব। সে একটা দেখবার জিনিস।
কখন গেলে ওখানে?
যখন ওর বাথরুমের লাইটের কাজ করতে হয়েছিল। ছোট বউয়ের জন্য বাড়িটা বানিয়েছে। সে জন্য এত সুন্দর। এটাকে মিসর থেকে বিয়ে করে এনেছে। তাই বুঝলি না কোটি টাকা কেবল বাথরুম বানাতেই খরচ করেছে। শালার ট্যাপগুলো মনে হয় সোনা দিয়ে তৈরি। বড় আয়নার ফ্রেমটা মনে হয় হিরাখচিত। মেঝে সাদা মার্বেলের। মাথার ওপর যে ফ্যানটা, সেটার পাখাগুলো মনে হয় রূপার। রোশনী বড় বড় চোখ করে রাজপুত্রের নতুন বউ আর তার বাথরুমের গল্প শোনে। বলে কাবেজ আলি—শালা মনে হয়েছিল কী জানিস, একটা সোনার ট্যাপ চুরি করে নিয়ে পালাই। পারলাম না। শালারা চোর ধরলেই হাত কেটে দেয়।
এবার ওরা আসে যে দুটো ঘর বানিয়েছে সেখানে। বলে কাবেজ—দুটো ঘর। মেয়েটার বয়স দশ। এখন আর এক খাটে তিনজনকে ঘুমাতে হবে না। কখন ও ঘুমায়, সে আশায় বসে থাকতে হবে না। যখনই মনে হবে... বলেই রোশনীকে জড়িয়ে প্রায় তার দম বন্ধ করে ফেলে। ছাড়ো তো। পায়েল এসে পড়বে ইস্কুুল থেকে।
পায়েল নামটাও তো আমার রাখা। তুই কী যেন একটা নাম রাখতে চেয়েছিলি—মহব্বতন না নিমকিন, না গুলবদন, না মোশফেকা শুনলেই মনে হয় দাদি-নানির নাম। পায়েল! নাম শুনলেই মনে হয় নূপুর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে আমার মেয়ে।
কাবেজ আলি একটু পাগল কিসিমের আবেগপ্রবণ মানুষ। রোশনী চুপচাপ। কল্পনা-ফল্পনা ওর মধ্যে নেই। এই মতোই চলছিল। বাড়িটা হলো। কাবেজ আলির ছুটিও ফুরিয়ে গেল। এবার গিয়ে জমাতে হবে। রান্নাঘরের পাকা চাল, খাবার টেবিল, একটা সোফা। বেশি টাকা পাঠাতে পারব না। যা পাঠাব, তা-ই দিয়ে চালিয়ে নিস। রোশনী মাথা নাড়ে। না, ও টাকা-পয়সা নিয়ে ঝগড়া করে না। চালিয়ে নেয়, যা পাঠায় কাবেজ আলি। বিএ ফেল মানুষটা তেমন ভালো কিছু করে না। তবে আশা আছে ভালো কিছু একটা হবে।
বাথরুমে এসে মন খারাপ হয় রোশনীর। একটা বাথটাব। দুটো বালতি। একটা মগ। কেমন মনমরা লাগে ওর। গোসল করবার পর কাপড় বদলাতে গেলে গা ঘেমে দর দর করে ঘাম ঝরে। মনে হয় সেই বাথরুমের কথা, যা তার স্বামী বলেছে। সে উদাস হয়। যতই ভালো করে চিঠি লিখতে চায় ভাষাটা ওই বাথরুমের মতোই কঠিন আর মলিন হয়ে যায়। একটু-আধটু পয়সা জমানোর অভ্যাস ছিল ওর। একদিন বিস্কুটের সে কৌটোটা খোলে। গুণে দেখে, প্রায় বারো হাজার টাকা। রোশনী দুই বাড়ি পরে যে লোকটা ঘরবাড়ি—বাথরুম বানায়, তার কাছে যায়। লোকটা কাবেজ আলিকে চেনে। রোশনীকেও চেনে। বলে হেসে—ভাবিসাব যে, কী মনে করে?
প্রথমে রোশনী কী বলবে, ঠিক বুঝতে পারে না। কেবল একটু হাসে। বলে—রমজান ভাই, আপনি কী আমার একটু কাজ করতে পারবেন?
কী কাজ, ভাবি? বলেন।
বাথরুমে একটা শাওয়ার মতো বানিয়ে দিতে পারেন? কিন্তু এই কথা কখনো আমার স্বামীকে বলবেন না।
ওকে পাচ্ছি কোথায়? ও তো এখন দুবাই না কাতার।
যদি ফোন-টোন করে। আমাদের খোঁজ নেয়। তখন।
না, বলব না। একটা শাওয়ার লাগাতে চান?
জি, মোবারক ভাই।
কিন্তু মোবারক শাওয়ার লাগাতে এসে জানতে পারে কেবল শাওয়ার নয়। এর সঙ্গে আরও কিছু লাগাতে চায় ও। যেমন দেয়ালে একটা ছোট দেয়াল-আলমারি। একটা আয়না। আয়নার নিচে একটা তাক। একটা দেয়ালঘড়ি। রং করে বাথরুমের কলি ফেরানো। এবং এর চেয়েও বড় কথা—একটা ফ্যান।
বাথরুমে ফ্যান?
ক্যান, উনি মানে আপনার বন্ধু তো বলছেন, রাজপুত্রের বাড়ির বাথরুমে ফ্যান আছে।
দুবাইয়ের রাজপুত্র?
দুবাই না কাতারের রাজপুত্র। একই কথা।
তাদের বাথরুমই তো কত বড়। ওখানে ফ্যান লাগালে সমস্যা হবে না। এখানে হতে পারে। কারণ, আপনার বাথরুম ছোট।
একটা বুদ্ধি বের করেন, রমজান ভাই। গোসল করে উঠে গা যে ভাবে ঘামতে থাকে, মনে হয় আবার গোসল করতে হবে।
রমজান কী ভাবে। তারপর তার মুখটা একটু প্রসন্ন হয়। বলে—দেয়ালের সঙ্গে একটা ফ্যান লাগানো যেতে পারে। তবে খরচও তো অনেক। হুক দিয়ে লাগিয়ে দেব। খরচ করতে পারবেন, যা লাগে?
সব মিলিয়ে কত খরচ হতে পারে?
খুব করে হিসাব করে রমজান বলে—ফ্যান, দেয়াল-আলমারি, আয়না, তাক, শাওয়ার—তা কমসে কম পনেরো হাজার টাকা। অন্যজন হলে বলতাম বিশ-বাইশ। আপনি নিজের মানুষ। মালপত্রের দামই ধরছি। এর সঙ্গে যে লোকটা কাজ করবে, তাকে তো কিছু দিতে হবে। রোশনী একটু ভেবে বলে, ঠিক আছে। আপনি পনেরো হাজারই পাবেন।
সাত দিন পর কাজ শুরু করব। দুই-তিন দিনের কাজ। এখন অন্য কাজে একটু ব্যস্ত। সেখানেও বাথরুমের কাজ। তবে সে বাথরুম বড়।
পায়েল, শোনো মা। মেয়ে পড়তে বসেছে। তাকে ডাকে। বলে—এই মাসটা মা আমাদের মাছ-মাংস খাওয়া চলবে না। তোকে আর আমাকে একটু কষ্ট করতে হবে রে।
পায়েল নতুন ঘর পেয়ে বেজায় খুশি। সে নানাভাবে ঘরটা সাজাতে ব্যস্ত। মায়ের কথা শুনে কেবল বলে—ঠিক আছে, মা। আমার আলুভর্তা আর ডাল সবচাইতে প্রিয়। তবে এ মাসে বাবা কি কম টাকা পাঠিয়েছেন?
তা পাঠায়নি। তবে আমার একটু টাকার দরকার। ও পুরো ব্যাপারটা মেয়েকে বলে না। মেয়ে তখন নতুন চাদরে ফুল লাগাতে ব্যস্ত। গোল গোল বড় বড় ফুল লাল কাপড়ে কেটে সেটা লাগাতে শুরু করেছে। অ্যাপলিক সে শিখেছে স্কুলে। রোশনী ওকে সেলাই শেখায়। আবার স্কুলেও শেখে মেয়েটা। সে বলে—রোজ দিন আলুভর্তা আর ডাল আর তোমার আচার। আমি মাছ-মাংস খেতে ভালোবাসি না।
মেয়েটার এমন কথায় চোখ ছল ছল হয় রোশনীর। মেয়েকে আদর করে। কাজেই পাঠানো টাকা থেকে একটু বাঁচাতে পারে ও। মায়ের কাছ থেকে কখনো ও কিছু চায়নি। মায়ের অবস্থা তেমন ভালো নয়। বাবা নেই। তিন-চার বিঘা জমির আয় থেকে কোনোমতে চালায় মা। সেখান থেকে প্রথমবারের মতো হাজার খানেক টাকা ধার করে আনে। —ধার কেন? এমনিই দিলাম। কোনো দিন তো কিছু দিতে পারি না। মা বলেন।
ঠিক আছে, মা। মেয়ে বলে। তারপর হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরে আসে।
সাত দিন পর কাজ শুরু করে রমজান। ফ্যান লাগায় একপাশে। দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে দেয়। সেখানে নিজে থেকে একটা চমত্কার লাইটও ফিট করে। আর দেয়াল-আলমারি বসে যেখানে বসবার। শাওয়ার ঝরঝর ধারায় পানি ঝরায়। দেয়াল-আয়নায় চেয়ে দেখলে বোঝা যায়, এখন আর ও ঘামছে না। এমনকি টয়লেটে বসেও দেয়াল ফ্যানের বাতাস খেতে পারে। এই ব্যাপার পায়েলকে খুশি করে সবচাইতে বেশি। অনেকসময় টয়লেটে বসে ও ছবির বই দেখে। দেয়ালের রংটা বেশ একটা মিষ্টি রং। জামের ভেতরে যেমন একটু হালকা-ফলসা রং থাকে, অনেকটা তেমন। তার সঙ্গে একটু মিঠে গোলাপির আভা। ঘড়িতে সময় দেখে ও যখন মুখে বেসনের প্রলেপ দেয়। একজন বান্ধবী বেসনের প্রলেপের কথা বলেছে। বলে—তোর মুখের কালো ভাবটা চলে যাবে। তারপর শাওয়ার ছেড়ে গা ভেজায়। দাঁড়িয়ে থাকে অনন্তকাল ধরে। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে রস-কষহীন, শুকনো, কল্পনাহীন মেয়েটার গলায় গান আসে। সেসব গান কবে যে শুনেছিল কে জানে। বসন্ত কালের বাতাসের মতো, গাছের পাতার মতো সবুজ হয়ে ওঠে যখন গোসল করে। শ্যাম্পু করে আবার ধুয়ে ফেলে। আবার একটু শ্যাম্পু করে। মনে হয়, বাথরুমের প্রেমে পড়েছে ও। বাথরুম থেকে বেরোতেই চায় না। ঘড়িতে সময় বলে। কোনো দিন আধঘণ্টা, কোনো দিন তারও বেশি।
দুপুরের গোসলের পর সেদিন একটু বিশ্রাম করে। তারপর দেয়ালের আয়নায় মুখ দেখে। সাবান ঘসে মুখটা ধোয়। চুল আঁচড়ায়। পায়েল গেছে নানির বাড়ি। আগামীকাল আসবে। সে তাকায় উঠোনে। ঘন কালো হয়েছে আকাশ। বোধহয় বৃষ্টি হবে। সে তাড়াতাড়ি দড়ির কাপড়গুলো তোলে। ঘরটা সাজিয়েছে পায়েল। সেখানে একটা লিখবার টেবিল। তখন ছত্রিশ বছরের রোশনী মনে হয় ষোল বছরের একটা মেয়ে। একটা কাগজ আর কলম টেনে নেয়। কাবেজ আলিকে চিঠি লিখবে। তখন সে আর অভাব, বা দাঁত ব্যথার কথা লেখে না। লেখে না অম্বলের কথা। বা বেগুনভর্তার বেশি ঝালের কথা। বা মাঝে মাঝে মাথাধরার কথা। শাওয়ারটা বসাবার পর কই তেমন করে তো আর মাথাও ধরে না।
রোশনী লিখছে—
জানো, আজ না মেঘের দিন। বৃষ্টি হবে। আচ্ছা বলতে পারো, বৃষ্টির বাড়ি কোথায়? হুড়মুড় করে ওরা সব কোথা থেকে আসে, রুমি। সে কখনো স্বামীকে এ নামে ডাকেনি। ওটা কাবেজ আলির ডাকনাম। লেখে আবার—পায়েলের গানের জন্য তুমি একটা ছোট গানের যন্ত্র কিনে দিয়েছিলে না, সেখানে একটা বৃষ্টির গান শুরু হয়েছে। এখন আমার কী মনে হচ্ছে জানো, তোমার হাত ধরে যদি চুপ করে বসে থাকতে পারতাম। একসঙ্গে যদি গান শুনতে পারতাম! এবার আসার সময় তুমি বেশ বড় একটা গানের যন্ত্র আনবে কিন্তু।
ও লেখে না, ছোট সেই গানের যন্ত্র ছেড়ে ও বাথরুমে গান শোনে। যখন ও শাওয়ার নেয়, গা ঘসে, শরীর মাজে। শাড়ি পরে। তারপর দেয়াল-আলমারি থেকে স্নো-পাউডার বের করে মুখে মাখে। চোখে কাজল করে। কখনো ঠোঁটও লাল হয়ে ওঠে। বেসনঘসা মুখটা ঝকঝক করে।
চিঠিটা বড় হতে থাকে। এইসব কথায় তিন পাতা। পরদিন সে চিঠি নিজে পাঠাবে বলে পোস্ট-অফিসে যায়। এমন করে যায় মনে হয়, সে কাবেজ আলিকে চিঠি পোস্ট করতে যাচ্ছে না। নীল শাড়ি উড়িয়ে এমন করে চলে যেন সে চিঠি কোনো প্রেমিককে লিখেছে ও। চিঠির শেষে লেখে—তোমার রোশনী।
সুখের অনুপান একটা মনের মতো বাথরুমও হতে পারে। বাথরুমের ফ্যান, শাওয়ার, গান, দেয়াল-আয়না, মিঠে ফলসা রং—এইসব। কাবেজ আলি সে খবর জানে না। কেবল অবাক বিস্ময়ে চিঠি পড়তে থাকে সারা দিনের ক্লান্তির পর। দুবাই বা কাতারের আকাশেও কি বৃষ্টির মেঘ জমে?