জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘ভারতের মানুষ নরেন্দ্র মোদিকে সুযোগ দিয়েছিল। তিনি সেই সম্মান রাখতে পারেননি। উনি আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।’ মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় জনসভার পর একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ওনার মনে ঘৃণা আছে। আমার মনে ভালোবাসা। ভালোবাসা দিয়েই আমি ওনার মনে ভালোবাসা জাগাবো। ব্যক্তিগত ভাবে কারোর সঙ্গে আমার শত্রুতা নেই। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে মোদির মনে ঘৃণা, মিথ্যাচার আছে। তাই উনি মানুষের চোখের দিকে সরাসরি তাকাতে পারেন না।’
ভোটের পর জোটের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? মমতা, মায়াবতী, অখিলেশ নাকি শারদ পাওয়ার? অনেক নাম উঠে আসছে। রাহুলের জবাব? ২৩ মে মানুষ জবাব দেবেন। আমার কাজ মানুষের ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, গত ৩০ বছর ধরে গান্ধী পরিবারের কেউ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হননি। এর মধ্যে ১৫ বছর ভারতে জাতীয় কংগ্রেসের সরকার ছিল। পি ভি নরসিমা রাও, মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আসলে মোদি আর প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না জেনে হতাশ হয়ে পড়ছেন। তাই উল্টাপাল্টা বলছেন।
রাহুল বলেন, এক সময় কংগ্রেস ব্রিটিশদের অত্যাচার সয়েছে। এখন না হয় বিজেপির অত্যাচার সইবে। আমার বাবা, দাদি দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। এটা দেশের সবাই জানে। ওরা হয় তো ভুলে গেছেন।
বোফর্স প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, ওদের হাতে তো সরকার রয়েছে। তদন্ত করুন। প্রয়োজনে আমাকে জেলে পুরুক। ৫ বছর ধরে মোদি ক্ষমতায় রয়েছেন। তদন্ত করলেন না কেন?
কংগ্রেসের ইস্তেহারে বলা ‘ন্যায়’ প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের নিম্নবিত্ত মানুষের আর্থিক উন্নয়ন ঘটানো। মোদির আমলে নোটবন্দির কারণে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। তাদের উন্নয়ন ঘটানোই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
পুরুলিয়ার কোটশিলায় ঐ জনসভায় রাহুল বলেন, আমার সম্পর্কে যা ইচ্ছা বলুন মোদি, তাকে হারাবই। গোটা দেশ তাকে শাস্তি দেবে। নরেন্দ্র মোদিকে শুধু কংগ্রেসই হারাতে পারে। গরিবের চৌকিদার হতে পারেননি মোদি। টাকা চুরি করে পালিয়ে গিয়েছেন নীরব মোদি, বিজয় মালইয়ারা। অথচ ঋণ খেলাপির জন্য চাষিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ক্ষমতায় এলে কংগ্রেস আইন সংশোধন করবে। ঋণ খেলাপ করলে চাষিদের আর জেলে যেতে হবে না।