না’গঞ্জে গ্যাস সংকট আরো তীব্র, দিশেহারা মানুষ

গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আগে দিনে গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও রাতে কিছুটা গ্যাসের চাপ পাওয়া যেত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টা গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। এছাড়াও শিল্প-কারখানায় মাসোহারা দিয়েও গ্যাসের চাপ পাওয়া যায় না বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। গ্যাসের অভাবে নারায়ণগঞ্জবাসী শহরের বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেছে। এদিকে গ্যাসের চুলায় চাপ বৃদ্ধি, বাসা-বাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে গত সোমবার নারায়ণগঞ্জের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ঝাড়ুসহ মিছিল করে তিতাস অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ সমাবেশে ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। ঘেরাও চলাকালে তিতাস গ্যাস অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পালিয়ে গেলে অফিসের প্রধান ফটকে নারায়ণগঞ্জবাসী তালা ঝুলিয়ে দেয়। এরপর থেকে গ্যাসের চাপ একেবারে নেই বলে জানা যায়। সরেজমিনে জানা যায়, শহরের দেওভোগ, কাশিপুর, বাবুরাইল, পাইকপাড়া, শহীদ নগর, নলুয়াপাড়া, ভুঁইয়ারবাগ, চাঁনমারী, ইসদাইর, মাসদাইর, পশ্চিম মাসদাইর, জামতলা, দাতা সড়ক প্রভৃতি এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কাশীপুর, মাসদাইর, বাড়ৈভোগ ও বিসিক শিল্প নগরীর আশপাশ এলাকায়। দিনের পর দিন গ্যাসের অভাবে শহর ও শহরতলীর মানুষ দিশেহারা হয়ে গৃহিণীরা ঝাড়ু হাতে শহরে মিছিল করা শুরু করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের দাবিতে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় মিছিল হচ্ছে। হরতালের মধ্যেও গত মঙ্গলবার গৃহিণীরা কাশিপুর, পঞ্চবটিসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝাড়ু মিছিল করেছেন। শহরের ডনচেম্বার এলাকার গৃহিণী দুলারী রহমান জানান, সকাল নয়টা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত গ্যাস একেবারে নিভু নিভু অবস্থায় থাকে। সংশিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক মিল-কারখানায় উত্পাদন প্রায় বন্ধই বলা চলে। পঞ্চবটি এলাকার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মজিবর রহমান ভুঁইয়া জানান, গ্যাসের চাপ না থাকায় তার ডাইং ফ্যাক্টরি গত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে বিসিক শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় কয়েকশ’ ডাইং ও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মাসোহারার ভিত্তিতে শ্যামপুরে রি-রোলিং মিলের মালিকরা বিশেষ ব্যবস্থায় গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা নেয়। তবে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফতুল্লা ও শহরে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জবাসী জানান, গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাস সিলিন্ডার ও স্টোভের দাম বেড়ে গেছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলিন্ডার প্রতি ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা দাম বেড়েছে। এ কারণে অনেকে দুপুরে কেরোসিন, লাকড়ির চুলা বা ওভেনে রান্না করছেন।