ভবন ধসে প্রাণহানির জন্য মালিকরা বীমা করেন না

ভবন ধসে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা কখনোই জীবন বীমার অর্থ পান না। কারখানার স্থাপনা বীমার আওতায় না থাকায় শিল্প মালিকরা এমনকি শ্রমিকের অভিভাবকরা বীমার অর্থ দাবি করতে পারেন না। অগ্নিকাণ্ডে একটি কারখানার যত শ্রমিক প্রাণ হারাক না কেন বীমা কোম্পানি ২০ জনের বেশি পরিবারকে জীবন বীমার অর্থ দেয় না। জানা গেছে, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা শ্রমকিদের জন্য নামমাত্র প্রিমিয়াম দিয়ে বীমা করে থাকেন। এর ফলে যত শ্রমিকই মারা যাক না কেন ২০ জনের বেশি পরিবারকে জীবন বীমার অর্থ দেয়া হয় না। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বীমা কোম্পানিগুলোর সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। বীমা খাতের বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির এ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, গার্মেন্টস শিল্প মালিকরা কখনোই তাদের কারখানা ভবনের বীমা করেন না। এজন্য ভবন ধসে পড়ে যদি কারো প্রাণহানি হয় তাহলে তারা বীমার অর্থ দাবি করতে পারে না। তিনি আরো বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা তাদের উত্পাদিত পণ্য এবং কাঁচামালের বীমা করলেও শ্রমিকদের সবার বীমা করেন না। উপরন্তু উত্পাদিত পণ্য, মেশিনারিজ এবং কাঁচামালের বীমা করার সময় তারা যে হলফনামা দেন তাতে উল্লেখ করা হয় যে, কারখানার অবস্থা ভালো। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে। এদিকে বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, কারখানা মালিকরা কোম্পানিগুলোর সাথে নামমাত্র প্রিমিয়ামের বীমা করে থাকেন। এ চুক্তি অনুযায়ী কোন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় যত শ্রমিকই মারা যাক না কেন ২০ জনের বেশি পরিবার বীমার অর্থ পান না। সামপ্রতিককালে তাজরীন ফ্যাশন্সসহ বিভিন্ন কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানি হলেও কোন কারাখানার ২০ জনের বেশি পরিবার বীমার অর্থ পাননি। অবশ্য বিজিএমইএ, সরকার এবং তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা নিহত এবং আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। নাসির এ চৌধুরী বলেন, ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ কারখানার মালিক ভবনের বীমা করেন না। কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি এ কাজটি করলেও দেশীয় উদ্যোক্তারা এ বিষয়ে একেবারে উদাসীন। সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক শিল্পের বীমার খোঁজখবর নিতে এসে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ওই ভবনে অবস্থিত পোশাক কারখানাগুলো শ্রমিকদের জন্য নামমাত্র প্রিমিয়ামের জীবন বীমা করলেও ভবন মালিক ভবনের কোন বীমা করেননি। পোশাক শিল্প কারখানার শ্রমিকদের বীমা নিয়ে কথা বলতে চাইলে বিজিএমইএর কোন নেতা এ বিষয়ে কথা বলেননি। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে নিরাপত্তার দিক থেকে ৫টি কারখানা একেকটি একেক মানের। ৫ কারখানায় মোট শ্রমিকের সংখ্যা ৩ হাজার ১২২জন। এর মধ্যে ইথারটেক্স নিজস্ব ওয়েবসাইটে নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক মানের বলে দাবি করেছে। নিউওয়েভের দুই প্রতিষ্ঠানের ক্রেতার তালিকা আর নিরাপত্তার যে তথ্য তাতেও কারখানা মানসম্পন্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ফ্যানটমের প্রতিষ্ঠান দুটি বাংলাদেশ ও স্পেনের যৌথ বিনিয়োগে স্থাপন করা হয়েছিল।