আর কত আদালতে যাব, এবার বিচার চাই :ড. কামাল
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:২৪
‘স্পেকট্রাম গার্মেন্টসে এত লোক মারা গেল, তাজরিন ফ্যাসনসে এত শ্রমিক পুড়ে ছাই হলো, এবার সাভারে রানা প্লাজা ধসে শত শত লোক মারা গেল। প্রতিটি ঘটনার জন্যই আমাদের আদালতে যেতে হয়েছে। আদালত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন, তদন্তের আদেশ দেন। কিন্তু পরে আর কিছু হয় না। এভাবে আর কতদিন কোর্টে যাব, কতদিন প্রেস কনফারেন্স করব। এবার অপরাধীদের বিচার চাই, জবাব চাই। আমি একা পারব না, আসুন সবাই মিলে এ বিচার নিশ্চিত করি।’ সাভার ট্রাজেডির ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবে তিক্ত ক্ষোভ ব্যক্ত করেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। অতীতের ঘটনাগুলোতে আদালতের নির্দেশের পরেও কেন ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি? আদালতইবা কেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি? এর জবাবে ড. কামাল বলেন, এতটুকুই বলতে পারি আমরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
হরতাল আহ্বানকারীরা স্তম্ভ ধরে টানাটানির কারণে ভবন ধসে পড়তে পারে, বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর) ওপরই এখন তদন্ত হওয়া দরকার।’
ড. কামাল হোসেন বলেন, এই ধরনের ঘটনাকে একটি জাতীয় বিষয় হিসেবে আজ জাতির সামনে এগিয়ে দেয়ার সময় এসেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে এবারও কেন আমাদের হাইকোর্টে যেতে হয়েছে? তাজরিনের ঘটনায় পরে কিছুই হয়নি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) যখন রিট করতে গেলাম, তখন হাইকোর্ট আমাকে বললো- কেন এসেছেন, আমরা তো আদেশ দিই, কিন্তু কী লাভ? আমি আদালতকে বলেছি, এবার আদেশ দিয়ে দেখুন, আমরা লেগে থেকে তদন্ত করাবো। কেন তদন্ত ঝুলে যায়, তা দেখার দায়িত্ব সকল নাগরিকের। তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতের যে বিকাশ, তার কৃতিত্ব দেশের নারী শ্রমিকদের। যারা দেশকে সবচেয়ে বেশি দিচ্ছে, তারাই আজ মারা যাচ্ছে। এই মৃত্যুই কী তাদের পুরস্কার? একটি ফুলকে বাঁচাতে আমরা সেদিন মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ৪২ বছর পর সে দেশের শত শত নারী শ্রমিক এভাবে জীবন দেবে- তা মেনে নেয়া যায় না। চলুন তাদের বাঁচাই। তাজরিনের ব্যাপারেও কোনো মামলা হয়নি। রানা প্লাজার মালিকও নাকি খুব প্রভাবশালী। কিন্তু আমরা নাগরিকরা এত অসহায় নই, আমরা দেশের মালিক। রানা যতই প্রভাবশালী হোন তাকে গ্রেপ্তার করতেই হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমি আইনের শিক্ষক হিসেবে বলতে চাই-সাভারে যে ঘটনা ঘটেছে তা মোটেও দুর্ঘটনা নয়, এটা হত্যাকাণ্ড। এটা মানব হত্যা, এটা নর হত্যা। ফৌজদারী দণ্ডবিধির ২৯৮ ও ২৯৯ ধারায় অপরাধমূলক নর হত্যার অপরাধে সাভারের ঘটনার জন্য অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন শাস্তি হতে পারে। কারণ মৃত্যুঝুঁকি জেনেও শ্রমিকদের কাজে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এটা নির্মম তামাশা। এই হত্যকাণ্ডের বিচার না হলে ভবিষতে আরো ভবন ধসে পড়বে, মানুষ মারা যাবে, রাষ্ট্রীয় শোক হবে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মর্মান্তিক এই ঘটনা আমাদের কাছে একটি শিক্ষার বিষয়। এদেশের মানুষ পরস্পরের প্রতি কত সংবেদনশীল তা আমরা সাভারের ঘটনায় দেখেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, তার ব্যাপারেই তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি কতখানি সুস্থ মস্তিষ্কের তা তদন্ত হওয়া দরকার। অর্বাচিন এই মন্ত্রী দায়িত্বে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। গণফোরাম নেতা মোস্তফা মহসীন মণ্টু, এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও কামাল উদ্দিন আহম্মেদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।