প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ : আমদানি বিকল্প ভাবতে হবে

মানবদেহের প্রতিটি কোষ, টিস্যু ও অঙ্গে প্রোটিন আছে। দেহের মোট ওজনের প্রায় ২০ ভাগই প্রোটিন। প্রোটিন ২০ ধরনের অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি হয়। এই ২০টি নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ যৌগ বা অ্যামিনো এসিডের মধ্যে ১০টি মানবদেহে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়। অপর ১০টি অ্যামিনো এসিড শরীরে তৈরি হয় না। মানুষ বিভিন্ন খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সেগুলোর যোগান দেয়। এগুলোকে বলে অপরিহার্য অ্যামিনো এসিড বা প্রোটিন। ইট দিয়ে বিল্ডিং নির্মাণের মতোই অ্যামিনো এসিড একে অপরের সাথে মিশে হাজারো রকমের প্রোটিন তৈরি করে। একেক ধরনের প্রোটিন একেক কাজে লাগে। প্রোটিন কোষ অন্যান্য অঙ্গের খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সারাতেও এগিয়ে আসে প্রোটিন। শরীরের প্রোটিন প্রতিনিয়ত ভাঙ্গে এবং প্রতিস্থাপিত হয়। দেহের স্বাভাবিক নিয়মেই তা ঘটে। তাই প্রতিদিনই প্রোটিন উত্সযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। সব ধরনের মাংস, ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, চাল-আটা এবং কিছু কিছু সবজি ও ফলে এই প্রোটিন পাওয়া যায়। কিন্তু যেকোনো একটি খাদ্য থেকে সব অপরিহার্য প্রোটিন পাওয়া যায় না। তাই স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা সবসময়ই পরিপূর্ণ প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে বলেন। এর অর্থ হচ্ছে, যে খাবারগুলো থেকে সব অপরিহার্য প্রোটিন পাওয়া যায় তার সবগুলোই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে। প্রাণীজ খাদ্য যেমন মাংস, মাছ, দুধ, ডিম, পনির এগুলোকে যৌথভাবে বলা হয় পরিপূর্ণ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। কারণ, এগুলো থেকে চাহিদার সব প্রোটিনই পাওয়া যায়। আর চাল, ডাল, বাদাম এগুলো হলো অপরিপূর্ণ প্রোটিন উত্স। এসব খাদ্যে অ্যামিনো এসিড কম পরিমাণে থাকে এবং সবগুলো পাওয়াও যায় না। তবে এসব খাবারের মিশ্রণে পরিপূর্ণ প্রোটিন পাওয়া যায়। যেমন ভাতের মধ্যে কোনো কোনো অপরিহার্য প্রোটিন কম থাকে। আবার ডালের মধ্যে সেগুলো বেশি আছে। তাই ডাল-ভাত মিশিয়ে খেলে পরিপূর্ণ প্রোটিন পাওয়া যায়। কিন্তু ডাল-ভাত থেকে পাওয়া প্রোটিন দেহের জন্য পর্যাপ্ত নয়। পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের দৈনিক ৪৫ থেকে ৫৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। যদিও প্রোটিন চাহিদা নারী-পুরুষ, দেহের ওজন ও শারীরিক শ্রমের ওপর নির্ভর করে। যেমন, একজন নিয়মিত অ্যাথলেটের দৈনিক ৮৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। বিশ্বে প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে অঞ্চলভেদে ভিন্নতা দেখা যায়। উত্তর আমেরিকায় প্রোটিন উেসর ৭০ শতাংশই পূরণ করে প্রাণীজ খাবার। অপরদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ এশিয়ায় ৬৫ শতাংশ প্রোটিন চাহিদা পূরণ করা হয় উদ্ভিদ প্রোটিন থেকে। সব খাদ্য থেকে সমান প্রোটিন পাওয়া যায় না। যেমন, এক কাপ দুধে ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে। আবার ১০০ গ্রাম মাংস থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। পেশীবহুল মাংসে প্রোটিন বেশি থাকে। অপরিহার্য প্রোটিন কম খেলে দেহের কোষ, তন্তু ও অঙ্গ পর্যাপ্ত পরিমাণে নাইট্রোজেন পায় না। তাই এরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। প্রোটিন কম খাওয়া মানেই পুষ্টিহীনতা। এর ফলে মানসিক শৈথিল্য, খাটো হওয়া, কাজে অমনোযোগ, লিভার বড় হয়ে যাওয়া, চামড়া খসখসে হয়ে পড়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে। যা দিনশেষে সেই মানুষটির কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শুধু প্রোটিনের যোগান দিলেই হয় না। দেহের পুষ্টি হিসেবে পরিমাণ মতো শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও আঁশযুক্ত খাবারও খেতে হয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই সবকিছু পরিমিত মাত্রায় থাকলে সেই খাবারকে সুষম খাদ্য বলা হয়। প্রয়োজনের দিক থেকে শর্করাই থাকে খাবারের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। যা প্রধানত চাল, আটা ও আলু থেকে আসে। যদিও বাঙালির খাদ্য গ্রহণের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকে ভাত। অতিরিক্ত চাল উত্পাদন নিশ্চিতে কৃষক ও সরকারও সচেষ্ট রয়েছে। ফলে দেশ ২০০০ সালের পর আবারও দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূূর্ণ হয়েছে। ইদানিং শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। শর্করার উত্স হিসেবে আটা ও আলু গ্রহণের হার প্রতিবছরই বাড়ছে। এ বর্ধিত চাহিদা মেটাতে প্রায় ২৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। যদিও দেশে গম উত্পাদন ২০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। ভাত-রুটির স্বার্থক বিকল্প হিসেবে আলুর ব্যবহার বাড়াতে পারলে গম আমদানির পরিমাণ কমে যাবে। এতে আলুচাষীরা ন্যায্যমূল্য পাবে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। চাল উত্পাদন বৃদ্ধির ওপর বাড়তি চাপ কমবে। বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশই সুষম খাদ্য পায় না। যাদের সঙ্গতি আছে তারাও খায় না মূূলত সুষম খাদ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাবে। আমাদের সামাজিক প্রথা অনুযায়ী রোগী কঠিন অসুখ থেকে উঠলে তাকে পুষ্টিযুক্ত খাবার দেয়া হয়। সাধ্য অনুযায়ী জিয়ল মাছ, বাচ্চা মুরগী, তাজা শাক-সবজি, ফল-মূল খেতে দেয়া হয়। কিন্তু বেশিদিন এ ধারা বজায় থাকে না। মানুষটি একটু চলাফেরা আর টুকটাক কাজকর্ম শুরু করলেই তাকে আবার নরমাল খাবার দেয়া হয়। ঘরের সবাই যা খায় তা-ই। আর সাধারণ খাওয়া মানেই প্রচুর ভাত। সপ্তাহে একাধিক দিন মাছ-মাংস থাকলেও তা থাকে পরিমাণের তুলনায় অনেক কম। দরিদ্র পরিবারে তাও জোটে না। শাক-সবজিও নিয়মিত নয়। দুধ বাচ্চাদের খাবার। তাই প্রাপ্তবয়স্করা তা এড়িয়ে চলে। আর ফল-মূল তো সাতে-স্বপ্নে খাওয়া হয়। রোগীর পথ্য সুস্থ মানুষ খাবে কেন এমন ভাব। এই রীতি শুধু যে বাঙালি সমাজে চালু আছে তা নয়। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকাসহ সর্বত্র তা এখনও প্রচলিত আছে। তবে বাংলাদেশের মতো নিম্নআয়ের দেশগুলোতে এটা প্রাত্যহিক ঘটনা। ফলে শত শত বছর ধরে চলে আসা রীতির প্রচলন ধনীর ডাইনিং টেবিলেও সমানভাবে বিরাজ করছে। পুষ্টিসম্পন্ন খাবারের সহজ প্রাপ্যতা গরীবদের জন্য একটি বড় সমস্যা হলেও ধনীদের জন্য তা সমস্যা নয়। প্রতিবন্ধকতা শুধু অভ্যাস পরিবর্তন ও সচেতনতা সৃষ্টিতে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত থাকে প্রোটিনজাতীয় খাদ্য। বাংলাদেশে আমিষের প্রাপ্যতা বিশেষ করে মাছ ও দুধ নিয়ে অনেক প্রবাদ আছে। একসময় গোয়ালভরা গরু আর পুকুরভরা মাছ ছিল। কিন্তু তা ছিল গ্রামের কয়েকটি পরিবারে। অবশিষ্ট শত শত পরিবার এই দুধ ও মাছের ভাগ পেতেন না। সেজন্যই দুর্ভিক্ষ লেগে থাকতো। পুষ্টির অভাবে ডায়রিয়া ও কলেরা মহামারিতে পরিণত হতো। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পুকুরের মাছ কমেছে। বেড়েছে খাল, বিল, ডোবা ও নদীর মাছ। কিন্তু বিগত দুই দশক ধরে তাও কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন কমে গেছে। দেশি প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। যদিও সরকার প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে মাছের পোনা উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করে। খাল-বিল-নদীতে মাছের উত্পাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। কিন্তু তা কোনোভাবেই প্রাকৃতিক প্রজননের ঘাটতি মেটাতে পারেনি। এ ঘাটতি পূরণে মাছচাষের মাধ্যমে একটি নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। মজা পুকুর ও ডোবা সংস্কার করে, নতুন জলাশয় তৈরি করে, ধানচাষের সাথে সাথী ফসল হিসেবে মাছচাষ করে কৃষকরা মাছের উত্পাদন অনেকগুণ বাড়িয়েছে। সরকার এসব উদ্যোগে কারিগরি সহায়তা, আর্থিক প্রণোদনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। সামুদ্রিক মাছ ধরার হারও অনেক বেড়েছে। গত চার বছরে মাছের উত্পাদন ২০০৮ সালের ১৭ লাখ টন থেকে ৩১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। আদর্শ চাহিদার তুলনায় ২ লাখ টন কম। বাংলাদেশ চিংড়িসহ কিছু মাছ রপ্তানি করে। আবার আমদানিও করে। সবমিলিয়ে মাছ উত্পাদনে ভাল অবস্থা বিরাজ করছে। মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ পাচ্ছে। গৃহস্থের ঘরের গোয়ালে গাভীর সংখ্যা কমলেও গরুর খামার বেড়েছে। দুধ উত্পাদন ২৩ লাখ টন থেকে বেড়ে ৩৫ লাখ টন হয়েছে। দুধ ও দুধজাতীয় পণ্য আমদানি বেড়েছে। মাংস উত্পাদন ১১ লাখ টন থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ৩০ লাখ টন হয়েছে। মাংসের স্বাভাবিক চাহিদা ৬৫ লাখ টন। সরবরাহ হচ্ছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। তাও দরিদ্ররা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। ডিমের উত্পাদন ৪৭০ কোটি থেকে ৭৫০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ডিমের চাহিদা ১ হাজার ৫০০ কোটি। উত্পাদন হচ্ছে মাত্র অর্ধেক। যদিও দেশে প্রচুর পোলট্রি শিল্প গড়ে উঠেছে। কিন্তু প্রকৃত চাহিদা মেটানোর সামর্থ্য অর্জিত হয়নি। দেশে গত চার বছরে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধের উত্পাদন প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। তারপরও আদর্শ চাহিদা অনুযায়ী মাছ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে উত্পাদন অনেক কম। সরবরাহ ও প্রাপ্যতার বৈষম্য তো আছেই। গ্রামের মানুষ বেশি পয়সা দিলেও ভাল মাছ, ডিম বা দুধ কিনতে পারে না। ক্রেতারা শহরে বিক্রি করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আর বেশি পয়সা তারা পাবেই কোত্থেকে! শাক-সবজির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। গত চার বছরে শাক-সবজি উত্পাদন প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। দামও প্রায় সব ভোক্তার আয়ত্তের মধ্যে। সবজি রপ্তানি করে দেশ বছরে ৪০ কোটি ডলার আয় করেছে। কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। তারপরও ধনীরা শাক-সবজি গরীবের খাবার বলে একে অবহেলা করে। আর গরীবেরা মাছ-মাংসের দিকেই তাকিয়ে থাকে। তাই ধনী-গরীব সবাই সুষম প্রোটিন গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিরামিষভোজীরা দুধ, পনির, ঘি, দধি প্রভৃতি খাদ্য তালিকায় রাখছে না। আবার প্রাণীজ প্রোটিনভোজীরা শাক-সবজি, ডাল, ফলমূল খেয়ে খাদ্য গ্রহণ সুষম করছে না। প্রাণীজ ও উদ্ভিদ প্রোটিনের প্রাপ্যতা ও চাহিদা নিয়ে দু’টি মত আছে। কেউ কেউ বলেন, প্রোটিনের চাহিদা বাড়লে উত্পাদন বাড়ানোর তাগিদ আসতো। বিনিয়োগকারী-ব্যবসায়ীরা আরও উত্সাহী হতেন। আবার অনেকের মতে, প্রোটিনজাতীয় খাদ্যের সরবরাহ বাড়লে ভোক্তারা বেশি বেশি প্রোটিন গ্রহণে উত্সাহী হতেন। বাংলাদেশের জনগণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রোটিন গ্রহণের পিছনে দুটো কারণই সক্রিয়। সুষম খাদ্য গ্রহণ অভ্যাসের বিষয়। তবে পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণের সাথে পরিবারের আর্থিক বিষয়টি জড়িত। প্রতিদিন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ খাওয়া অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয় না। সরকার তাই ‘একটি বাড়ী একটি খামার’ প্রকল্প দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করছে। যার মাধ্যমে কৃষক নিজ বাড়িতেই প্রোটিনসহ প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদান উত্পাদন করছে। ১০ লক্ষাধিক দরিদ্র কৃষক পরিবারকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের প্রায় ২ কোটি কৃষক পরিবারকে এ ধারণার সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। যাতে প্রোটিন যোগানের জন্য তাদের বাজারে যেতে না হয়। বাড়িতেই উত্পাদন করতে পারে এবং উদ্বৃত্ত উত্পাদন বাজারে বিক্রি করতে পারে। এতে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে। জনগণের মধ্যে সুষম খাদ্য গ্রহণের সচেতনতাও তৈরি হবে। এজন্য প্রতিটি কৃষক পরিবারকে কৃষিঋণের অতিরিক্ত স্বল্পসুদে ঋণ দেয়া যেতে পারে। প্রোটিন-ঋণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী, স্থানীয় কৃষি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা যেতে পারে। শিশু বয়স থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন পেলে শিশুর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে। পেশী সবল হবে। মেধার যথার্থ বিকাশ ঘটবে। কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। জাতীয় উত্পাদনশীলতা বাড়বে। মানব সম্পদ উন্নয়ন সহজ হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুততর হবে। দারিদ্র্য হ্রাস আরও ত্বরান্বিত হবে। একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনের পথ প্রশস্ত হবে। তাই প্রোটিন-ঘাটতি পূরণে সরকার ও প্রতিটি পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে।