বৃক্ষ নিধন বন্ধ করুন

সারাদেশে অবাধে বৃক্ষ নিধন চলছেই। মনে হয় দেখার কেউ নেই। যে যার মতো বৃক্ষ কেটে চলেছে। সরকারি বন বিভাগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বনাঞ্চল, ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বাগানে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বন উজাড় করে ফেলা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অহরহ। দেশের নদীগুলোতে পানি শূন্যতার কারণে গ্রামাঞ্চলের কৃষকেরা এখন আর কৃষিকাজ না করে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার নিজেদের পরিত্যক্ত কৃষিজমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ভবিষ্যতে টাকার আশায় দিন গুনছে। এদের অনেকেই অর্থাভাবে তার লাগানো গাছ পরিপক্ব অর্থাত্ বড় হওয়ার আগেই অল্প টাকায় বিক্রি করে নিজের জীবিকা রক্ষা করছে। সংসার চালাতে অর্থ সংগ্রহে বিকল্প পথ না থাকায় এ পথ খুঁজে নিচ্ছে ভুক্তভোগী কৃষকরা। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে গেলেই বাগানের পাশে রাস্তায় কাটা চারা গাছের স্তূপ দেখা যাবে। এসব কাটাগাছ অপরিপক্ব হওয়ার কারণে আসবাবপত্র তৈরিতে কাজে না লাগায় এগুলো বেশিরভাগই রান্নার কাজে ব্যবহূত লাকরি অথবা ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বিক্রি হয়। ফলে কৃষকরা তাদের গাছের যথাযথ মূল্য পায় না। বেসরকারি অথবা ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা গাছের বাগান গড়ে তুলতে সরকারি কোনো পৃষ্টপোষকতা না থাকায় উদ্যোক্তরা তাদের নিজের ইচ্ছামতো গাছ লাগায় আবার কেটে বিক্রি করে। একটি গাছ কাটলে সেখানে আরেকটি গাছ লাগানোর নিয়ম থাকলেও কেউ সেই নিয়ম মানে না। এ ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থা ও গণসচেতনতায় সরকারি পৃষ্টপোষকতা থাকলে সংশ্লিষ্টরা নিয়ম মেনে চলতো। সরকারি বন বিভাগেও গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে। একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী বন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে সরকারি মহামূল্যবান গাছ কেটে তা কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। বৃক্ষ কাটা বন্ধে সরকারি কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। অনেকেই মনে করেন বৃক্ষ কাটা বন্ধে সরকারি একটি নিয়ম থাকা উচিত। সেই নিয়মে একটি গাছের বয়স কমপক্ষে কত হলে তা বিক্রিযোগ্য হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। বৃক্ষপ্রেমীদের জন্য সহজশর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে নির্দিষ্ট বয়সের আগে গাছ বিক্রি করতে না হয়। যদি কেউ এ নিয়ম ভঙ্গ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোপরি বৃক্ষ কাটা বন্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে জনসচেতনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। গণমাধ্যমগুলোকে বৃক্ষ নিধনের অপকারিতা নিয়ে প্রতিবেদন, নাটিকা ও সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। ঢাকা