বৈঠকে রাজি না হলে উত্তরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দক্ষিণ কোরিয়া

কায়েসং যৌথ শিল্প-কারখানা আবার চালুর জন্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। পিয়ংইয়ং এ আলোচনায় রাজি না হলে তাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সিউল। দুই কোরিয়া পুনরেকত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিম হায়ুং-সুক উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার এ হুঁশিয়ারি দেন। এ মাসের শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্তবর্তী ওই শিল্প এলাকার দরজা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি নিজেদের ৫৩ হাজার শ্রমিককে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়া তৃতীয়বারের মতো পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালানোর পর প্রতিবেশী দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। হায়ুং-সুক বলেছেন, ‘কায়েসং শিল্প এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে দুই কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। তাছাড়া, কায়েসং শিল্প এলাকাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়াও আলোচনার লক্ষ্য।’ তিনি উত্তর কোরিয়াকে শুক্রবার সকালের মধ্যেই আলোচনার এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়ার দাবি জানান। হায়ুং-সুক বলেন, ‘পিয়ংইয়ংকে শুক্রবারের মধ্যেই আলোচনার ব্যাপারে সাড়া দিতে হবে। আর তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে কঠোর ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে।’ কিন্তু কায়েসং শিল্প এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মধ্যদিয়ে ওই প্রকল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে দায়ী করে আসা উত্তর কোরিয়া এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উত্তর কোরিয়া আলোচনা প্রস্তাব না মানলে কি কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে সে ব্যাপারে কিছু বলেননি হায়ুং-সুক। তবে কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন, ওই শিল্প-কারখানায় কর্মরত ১৭৬ জন দক্ষিণ কোরীয় কর্মী প্রত্যাহার করে নিতে পারে সিউল। কারখানাটি সীমান্তের অদূরে উত্তর কোরিয়ার অংশে অবস্থিত। এর আগে বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কায়েসং শিল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর জন্য আর্থিক প্রণোদনাসহ অন্যান্য সাহায্য দেয়ার ঘোষণা দেয়। ফেব্রুয়ারিতে পরমাণু পরীক্ষার জেরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোর করলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পিয়ংইয়ং। সেইসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার কারণেও ক্ষেপে আছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি সামপ্রতিক সময়ে একাধিকবার দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলার হুমকি দেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডসহ প্রশান্ত মহাসাগরের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।