স্বজন হারানোর হাহাকার দেয়ালে দেয়ালে ছবি

সাভারে ভবন ধসের পর থেকে নিখোঁজ শত শত স্বজনদের খোঁজে প্রতিদিন আসছেন দলে দলে স্বজনহারারা। কেউ সন্তান, কেউ পিতামাতা, কেহ স্বামীর খোঁজে। হতাহতের নামের তালিকায় নিখোঁজ স্বজনের নাম দেখতে না পেয়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। রানা প্লাজার আশেপাশে গতকাল শুক্রবার শত শত স্বজনহারাদের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। অনেকের হাতে ছবি। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকেন যদি স্বজনের সন্ধান মিলে। নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান পাওয়ার আসায় সারাদিন কেটে যায় না খেয়ে। গতকাল থেকে অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে দেয়ালে দেয়ালে নিখোঁজ স্বজনের ছবি লাগিয়ে দিচ্ছেন। পুরা দেয়ালব্যাপী নিখোঁজ স্বজনদের ছবি, সঙ্গে নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার। গতকাল অপরাহ্নে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে মিছিল বের করেন। তাদের বেশিরভাগের হাতে ছিল ছবি। মিছিলে স্লোগান ছিল আমার সন্তান, আমার পিতা, আমার মা ও বোনকে ফিরিয়ে দাও। আর কোন লাশের মিছিল দেখতে চাই না। উদ্ধার কাজে অবহেলার অভিযোগ করেন মিছিলকারীরা। বেশিরভাগের চোখের পানি পড়তে দেখা যায়। রানা প্লাজার ছয়তলার নিখোঁজ গার্মেন্টস কর্মী ফোরকান (২৫), সাহিদা আক্তার (২০), বিলকিস (৩০), আজাদ (২৫) ও তৃতীয় তলার গার্মেন্টস কর্মী নাজনীন আক্তার (২০), সপ্তম তলার লাকি বেগম (২০), লাইন চীফ গার্মেন্টসের কর্মী সিহানা আক্তার কাজল (২৫), ৪র্থ তলার কর্মী বিউটি রাণী (২৮), লাইন সিকিউএস গার্মেন্টস কর্মী মিলন কুমার (২৫), ৪র্থ তলার গার্মেন্টস কর্মী মজিনা আক্তার (২০), ৪র্থ তলার কর্মী আসমা আক্তারের (২৫) ছবি দেয়ালে লাগান স্বজনহারারা। ঐ সময় তাদের আহাজারিতে অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ও আশেপাশে হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পাশে বাসা বাড়ি বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষদের চোখের পানি ঝরতে দেখা যায়।