ধ্বংসস্তূপে বাঁচার আকুতি
সমীর কুমার দে/তুহিন খান, সাভার থেকে
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৬
‘ভাই আমার নাম শিউলি, আমার ৬ মাসের শিশু বাচ্চা রয়েছে, ওকে দুধ খাওয়াতে হবে, প্লিজ আমার বাচ্চার জন্য আমাকে বাঁচান।’ তার পাশ থেকেই কামরুননেছা বললেন, ‘ভাই একটা করাত দেন, আমি নিজেই হাতটা কেটে বের হয়ে আসতে পারব। লাশের গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পারলে একটু অক্সিজেন দিয়েন।’ পাশ থেকে আরেকজন চাইলেন শুধু একটু পানি। আরেক নারী শ্রমিক বললেন, ‘ভাই আমার মাকে বইলেন, আমাকে মাফ করে দিতে, আমার বাড়ি পিরোজপুরের হুলারহাট। ভাই আমি মারা গেলে লাশটা বাড়িতে পাঠাইয়া দিয়েন।’ আরেকজন বললেন, ‘ভাই দরকার হলে আমার পা কেটে বের করেন, তবুও আমাকে বাঁচান। আমি আর এই যন্ত্রণা সইতে পারছি না!’ সাভারের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়া মানুষগুলো গতকাল শুক্রবারও এভাবেই আর্তচিত্কার করছেন, বেঁচে থাকার আকুতি জানাচ্ছেন। উদ্ধারকর্মী কিংবা সাংবাদিক যাকেই সামনে পাচ্ছেন তার কাছেই জানাচ্ছেন এই আকুতি। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কারণে ক্রমশই উদ্ধার তত্পরতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। উদ্ধারকর্মীরাও জানিয়েছেন, আটকে পড়াদের বাঁচাতে অক্সিজেন প্রয়োজন। যা দেয়া হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়।
গতকাল সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপ থেকে জানানো হল, ভেতরে আরো ৫০ জনকে জীবিত অবস্থায় থাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। মধ্যরাতে জানা গেল, এদের ৩০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে শিউলী বা কামরুননেছারা অবশ্য নেই। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জীবিত মানুষ উদ্ধারের কথা থাকলেও গতকাল মধ্যরাতে আইএসপিআরের পরিচালক শাহিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ের বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত মানুষের সন্ধান পাওয়া যাবে ততক্ষণ পর্যন্তই তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে। এরপর লাশ উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক অপারেশন চালাবে। তবে ঘটনার তিন দিন পরও যে ভেতরে বহু লোক এখনো আটকা রয়েছেন তা অনেকটা নিশ্চিত। এর পরিমাণ কত হবে কেউ বলতে পারেননি। ভেতর থেকে আসা মানুষের লাশের উত্কট গন্ধে এখন বাইরে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত ৩২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছেন ২ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে শুধু গতকালই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১১১ জনকে। আরো কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার পোদ্দারপাড় এলাকা থেকে ভবন মালিক সোহেল রানার ভাবী ও ফুপাকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার থানা পুলিশ। খুঁজছে ভবন মালিক রানাসহ অন্য আসামিদের। পুলিশ, উদ্ধারকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর থেকেই নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে ঢল নামে হাজার হাজার লোকের।
পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা উপস্থিত থাকার পরও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। এতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। এক পর্যায়ে সেনাসদস্য, র্যাব ও পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন ক্ষুব্ধরা। তাদের সামাল দিতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছোঁড়ে।
উদ্ধার হওয়া গার্মেন্টস শ্রমিকরা বাইরে বেরিয়ে এসে ধ্বংসস্তূপে থাকা জীবিত ব্যক্তিদের নারকীয় যন্ত্রণার বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, আরো সহস্রাধিক ব্যক্তি ভেতরে চাপা পড়ে আছেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় বহু শ্রমিকের আর্তনাদ শুনেছেন উদ্ধার হওয়া শ্রমিকরা। তারা জানান, দ্রুত উদ্ধার করতে না পারলে বেশিরভাগই মারা পড়বেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, র্যাব, পুলিশ, আনসার, রেডক্রিসেন্ট ও বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক লাশ। অনেককে আবার জীবিত উদ্ধার করলেও দেখা গেছে হাত-পা কেটে উদ্ধার করা হচ্ছে। নয় তলা ভবন ধসে এখন তিন তলার উচ্চতায় আছে। এক তলার সঙ্গে আরেকটি মিশে গেছে। এর মধ্যেই উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
দুর্গন্ধে আশপাশে টেকা দায় :ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আসছে উত্কট দুর্গন্ধ। কিছু স্বেচ্ছাসেবী এয়ারফ্রেশনার স্প্রে করছেন। তারপরও কিছুতেই দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। এতে উদ্ধার কাজেও বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়াও অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠেও বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে লাশের গন্ধে। স্কুলের প্রধান ফটকে নিখোঁজদের পরিচয় লিখে সন্ধান চাইছেন স্বজনরা। বুধবার থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সব মৃতদেহ ওই স্কুল মাঠের বারান্দায় রাখা হয়। সেখান থেকে শনাক্ত করা মৃতদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ জনের মৃতদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ মৃতদেহগুলো অনেকটাই বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পেতে সাভার থানায় সন্ধান চাই নামে একটি তালিকা করা হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনো বহু মানুষ অপেক্ষা করছে উদ্ধার হওয়ার আশায়। ক্ষণে ক্ষণে তাদের করুণ আর্তনাদ ভেসে এলেও সেখানে পৌঁছতে পারছে না উদ্ধারকর্মীরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে বেড়েই চলছে লাশের সংখ্যা। নিখোঁজ আপনজনের খোঁজে আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলতে থাকা অপেক্ষমাণ অনেকের কণ্ঠেই হতাশার সুর। অনেকেই হাসপাতাল থেকে স্কুল মাঠ, স্কুল মাঠ থেকে ধ্বংসস্তূপ পর্যন্ত শুধুই দৌড়াচ্ছেন আপনজনের খোঁজে।
উদ্ধারকর্মী রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভেতরে যেখানে ভারি পিলারের বড় অংশ পড়ে আছে সেখানে অনেকেই চাপা পড়ে আছেন। তাদের অনেকে জীবিত অবস্থায় আছেন। কিন্তু এই ভারী পিলারগুলো সরানোর মতো যন্ত্র নেই। হালকা যন্ত্র দিয়ে যেখানে যেভাবে পারা যাচ্ছে, মানুষ ঢুকে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন। সরকারি আধুনিক যন্ত্র ও সেগুলো ব্যবহারের পদ্ধতি জানা থাকলে এত লোক মারা যেত না বলে মনে করেন তিনি। উজ্জ্বল নামের আরেক উদ্ধারকর্মী জানান, ধ্বংসস্তূপের যেখানেই একটু ফাঁক দেখছেন, সেদিক দিয়ে ঢুকে আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধার করছেন তিনি। কিন্তু লাশের উত্কট গন্ধের কারণে ঠিকমত উদ্ধার কাজ করা যাচ্ছে না বলে স্বীকার করেন তিনি।
নিখোঁজ ৬৫৯ জনের স্বজনের জিডি :সাভারে ধসে পড়া ভবন ঘিরে এখন কেবল লাশের গন্ধ আর স্বজন হারাদের কান্নার রোল। তাদের চোখে-মুখে কেবল বেদনা আর শঙ্কা। জীবিত কিংবা মৃত যাই হোক প্রিয় মানুষটাকে ফেরত পাওয়ার আকুতি তাদের। সাভার থানায় নিখোঁজদের সন্ধান চেয়ে জিডি করা হয়েছে ৬৫৯ জনের নামে। অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লাশ হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ২৮১ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ৩৯টি লাশ রয়েছে, যাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
ছোট সুড়ঙ্গ করে চলছে উদ্ধার অভিযান :ধসে পড়া ভবনের ভেতর থেকে জীবিত অথবা মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য উপর থেকে মেশিনের মাধ্যমে ছাদ ফুটো করে নিচের দিকে নামছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছোট ছোট এ রকম আটটি সুড়ঙ্গ পথে বের করে আনা দেহগুলোর মধ্যে কোনোটিতে আছে প্রাণের স্পন্দন, কোনো কোনটি পচে ফুলে উঠেছে। বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। উদ্ধারকর্মীরা জানান, আরও ধসের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে তারা ভারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে ড্রিল মেশিন আর রড কাটার যন্ত্র দিয়ে উপর থেকে ধসে পড়া প্রতিটি তলা ফুটো করেই জীবিত অথবা মৃতদের সন্ধান করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ভবনটি পুরোপুরি ধূলায় মিশিয়ে যাওয়া রোধে ছাদ ফুটো করা ছাড়া কোনো উদ্ধার অভিযান চালানো যাচ্ছে না। এজন্য ধসে পড়া ভবনের উপর দিকে ফুটো করে সুড়ঙ্গপথে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন সাধারণ মানুষও। ভবন ধসের পর থেকেই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ধ্বংসস্তূপ থেকে যেসব লাশ বেরুচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগই পচে ফুলে গেছে। দুর্গন্ধের মধ্যে সুড়ঙ্গগুলোতে কাজ করতে এয়ার ফ্রেশনার ছিটাতে হচ্ছে। কোনো লাশ বের করে এ্যাম্বুলেন্সে অথবা ট্রাকে নেয়ার সময়ও এয়ার ফ্রেশনার ছিটাতে হচ্ছে।
দুই শিল্প পুলিশ জীবিত উদ্ধার :দুর্ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর সেখানে আটকে পড়া দুই শিল্প পুলিশকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে ভবনের তিনতলা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এরা হলেন- শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুকুল কন্ডু ও কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম। তাদের সাভার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রানা প্লাজার চতুর্থ তলায় ফাটল দেখা দিলে কারখানাগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয় শিল্প পুলিশ। পরদিন বুধবার সকালে ওই দুই গোয়েন্দা সদস্য কারখানা খোলা আছে কি না তা দেখতে সেখানে যাওয়ার পর পরই নয় তলা ভবনটি ধসে পড়ে। এরপর থেকেই তাদের কোনো হদিস ছিল না। এমনকি তাদের দুজনেরই মুঠোফোন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টা পর ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে তাদের উদ্ধার করে সাভার সিএমএইচএ ভর্তি করা হয়েছে।
ওরাই সাহসী, ওরাই বীর :ওরাই সাহসী, ওরাই বীর। ওরাই অকুতোভয়। নেই প্রতিদানের আশা। নেই কোন প্রশিক্ষণ । নেই জীবনের মায়া। তবুও ওরা মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। প্রকৃত ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছেন। অসহায় ও বিপন্ন জীবনের মুক্তির নেশায় নিজের জীবনকে ফেলেছেন ঝুঁকির মধ্যে। অবিশ্বাস্য সাহসিকতায় ধ্বংসস্তূপের সুড়ঙ্গ কেটে একে একে বের করে আনছেন জীবন্ত প্রাণ বা লাশ। এমন অকুতোভয় অন্তত বিশটি স্বেচ্ছাসেবক দলের তরুণরা রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। উদ্ধারকর্মী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জীবিত একটি প্রাণ উদ্ধারের পরপরই সাহস ও শক্তি সঞ্চারিত হচ্ছে তাদের মনে। মিরপুর আজমত গ্রুপের একটি গার্মেন্টসের সুপারভাইজার মাসুদ রানা। বয়স বাইশ কি তেইশ। ভবন ধ্বসের খবর শুনেই ছেড়েছেন চাকরি। যোগ দিয়েছেন ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাণ বাঁচানোর কাজে। তিনি বলেন, গতকাল সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত দুই মহিলা ও একজন পুরুষকে উদ্ধার করেছেন। ধসে যাওয়া ভবনের নিচতলায় কেচি গেটের কাছে আরও তিন জন মানুষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের উদ্ধার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কেট মালিককে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মিছিল :সাভারে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে একাধিক শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে সাধারণ শ্রমিক ও জনগণ শত শত শ্রমিক হত্যার অভিযোগে মার্কেটের মালিক আবদুল খালেক ও তার পুত্র রানাসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মিছিল করেছে। এদিকে নিখোঁজ মানুষদের স্বজন আর উত্সুক জনতার প্রচন্ড চাপে উদ্ধার কাজে বিঘ্ন হচ্ছে।
উদ্ধার কাজে ধীরগতির অভিযোগ :ধসে পড়া ভবনের উদ্ধার কাজ চলছে বেশ ধীরগতিতে। উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। সরকারি উদ্ধার কর্মীদের উদ্ধারে শিথিলতার অভিযোগ করেছেন উপস্থিত জনতা ও আটকে পড়াদের স্বজনরা। এ অভিযোগে সাভারে দফায় দফায় উপস্থিত জনতা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৩ নম্বার ব্যাটেলিয়নের উপ-অধিনায়ক এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষ যেভাবে ভাবছেন বিষয়টি এমন নয়। সাধারণ মানুষ যেভাবে অভিযান দেখতে চাচ্ছে সেভাবে অভিযান চালালে ভেতরে কেউ বেঁচে থাকবে না। সাবধানতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেই ঘটনার দুই দিন পরও জীবিত মানুষ ভেতর থেকে বের করে আনা যাচ্ছে।
ধীরগতির অভিযোগ নাকচ করে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান বলেছেন, ভবনটি ধসের পর উদ্ধার কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এতে সবাই উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন। একটি ভবনের ভেতরে কীভাবে ঢুকতে হয় এবং কীভাবে দেয়াল ভাঙতে হয়, অনুসন্ধান চালাতে হয়, সেসব বিষয়ে একমাত্র ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে সব বাহিনী প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন জানিয়ে আলী আহমেদ বলেন, এখানে কাউকে ছোট করার জন্য এ কথা বলছি না। এ কারণে বলছি যে, টেকনিক্যাল কাজতো আর সাধারণ মানুষ বা প্রশিক্ষণহীন মানুষ করতে পারেন না। তবে এটা সত্য যে, অসংখ্য সাধারণ মানুষ উদ্ধার অভিযানে সাহায্য করছেন।
আইএসপিআরের সাংবাদিক সম্মেলন :গতকাল বিকালে সাভার কন্ট্রোল রুমের সামনে উদ্ধার তত্পরতা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন আইএসপিআরের পরিচালক শাহিনুল ইসলাম। তিনি জনগণকে সংবেদনশীল হবার আহবান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন আছে, যখন যা প্রয়োজন তখন তা ভিতরে দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় উদ্ধার সামগ্রী আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিতরে জীবিত একজন থাকলেও উদ্ধার কাজ চলবে।